হিন্দি কি অন্য ভাষার প্রতিযোগী? হিন্দি দিবসে অমিত শাহের মন্তব্যে শোরগোল!

হিন্দি দেশের অন্যান্য কোনো আঞ্চলিক ভাষার প্রতিযোগী নয়, বরং এটি ভারতের বিচিত্র ভাষাগোষ্ঠীর মধ্যে মেলবন্ধন তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। হিন্দি দিবসে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশের এই ভাষাগত ঐতিহ্যের কথা আবার স্মরণ করিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি স্পষ্ট জানান, ভারতের বহুভাষিক বৈচিত্র মোটেই দেশের দুর্বলতা নয়, বরং এটিই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। একই সঙ্গে এদিনের মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে তিনি জানান, আগামী ২০২৯ সালের আগেই দেশের অন্তত ২১টি রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) কার্যকর করবে।
প্রতি বছর ১৪ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে সাড়ম্বরে পালিত হয় হিন্দি দিবস। ১৯৪৯ সালের এই দিনেই ভারতের সংবিধান সভা দেবনাগরী হরফে লিখিত হিন্দি ভাষাকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক দিনের কথা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতীয় ভাষাগুলি সাধারণ মানুষের কাছে দেশের উন্নয়ন, প্রশাসনিক কাজ এবং রাষ্ট্রগঠনের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সমস্ত ভারতীয় ভাষার পাশাপাশি হিন্দিও দেশের জাতীয় ঐক্য এবং স্বরাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে দারুণভাবে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে দেশের ইতিহাস এবং বরেণ্য জাতীয় নেতাদের অবদান তুলে ধরেন অমিত শাহ। তিনি জানান, স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর মাতৃভাষা গুজরাটি হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘সত্যার্থ প্রকাশ’ হিন্দিতে রচনা করেছিলেন। অন্যদিকে, বাঙালি হয়েও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আজাদ হিন্দ ফৌজের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে হিন্দিকেই বেছে নিয়েছিলেন এবং দেশকে উপহার দিয়েছিলেন চিরস্মরণীয় ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান। এমনকি ১৯১৮ সালে তৎকালীন মাদ্রাজে ‘দক্ষিণ ভারত হিন্দি প্রচার সভা’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন খোদ মহাত্মা গান্ধী।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লাল কেল্লার ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, পরাধীন মানসিকতা থেকে মুক্তির যে ডাক প্রধানমন্ত্রী অতীতে দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়িত করতে মাতৃভাষা ও নিজ ভাষার ভূমিকা অপরিসীম। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রভাব কাটিয়ে ওঠার নানা উদাহরণের পাশাপাশি দিল্লির ‘রাজপথ’-এর নাম বদলে ‘কর্তব্য পথ’ করার প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। শাহের মতে, ইংরেজ আমলের পুরনো দণ্ডবিধি বদলে দেশে এখন কার্যকর করা হয়েছে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’, যা কেবল কিছু শব্দের রদবদল নয়, বরং ভারতের আত্মমর্যাদা ও গর্ব পুনরুদ্ধারের এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।