ধরেও বের করা যাচ্ছে না কেন? আমেরিকায় ৫১ হাজার অবৈধ অভিবাসী আটকের পরও কেন থমকে রয়েছে বড় কড়া পদক্ষেপ?

আমেরিকায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কড়া অভিযান চালিয়ে চলেছে প্রশাসন। মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই (ICE)-এর গ্রেফতারির সংখ্যা প্রতি মাসেই নতুন রেকর্ড গড়ছে। তবে এর মধ্যেই সবথেকে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে যে, বিপুল সংখ্যক মানুষকে আটক করা হলেও সেই অনুপাতে তাদের দেশ থেকে বের করার বা ডিপোর্ট করার হার কেন বাড়ছে না? হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করার পরেও তাদের অবিলম্বে কেন স্বদেশে পাঠানো হচ্ছে না, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা।

কেন আটকে রয়েছে ডিপ্রেশনের প্রক্রিয়া?

রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসেই আইসিই প্রায় ৫১ হাজার মানুষকে গ্রেফতার করেছে। এটি টানা তৃতীয় মাস, যখন গ্রেফতারির সংখ্যা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১,২০0 জনের আশপাশে মানুষকে ডিপোর্ট করা সম্ভব হচ্ছে।

এর পেছনে মূলত রয়েছে আইনি ও ব্যবহারিক একাধিক বড় বাধা। গ্রেফতার হওয়া সকলের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ডিপ্রেশনের নির্দেশ থাকে না। অনেকেরই রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলামের আবেদন বিচারাধীন রয়েছে। ফলে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের জোর করে অন্য দেশে পাঠানো সম্ভব নয়। এছাড়াও অনেক আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে থেকেই কোনো ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ বা পূর্বনির্ধারিত ডিপ্রেশন অর্ডার নেই।

বাস্তবমুখী নানা জটিলতা

শুধু আইনি প্যাঁচই নয়, বড় পরিসরে মানুষকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য পর্যাপ্ত বিমানের অভাবও একটি বড় অন্তরায়। অনেক দেশই আবার নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বিভিন্ন শর্ত বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে থাকে। সবমিলিয়ে, মার্কিন প্রশাসনের এই ধরপাকড় অভিযান বড় সাফল্য পেলেও প্রশাসনিক ও আইনি মারপ্যাঁচে আটকেই রয়েছে মূল প্রক্রিয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *