জয় শাহর মতো মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ নেই! এসিসি সভাপতির পদ থেকে মহসিন নকভির বিদায় কি তবে নিশ্চিত?

পুরুষদের পর এবার মহিলা এশিয়া কাপের ফাইনালের মঞ্চেও চরম বিতর্কের মুখে পড়লেন পিসিবি চেয়ারম্যান তথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) সভাপতি মহসিন নকভি। সূর্যকুমার যাদবদের পথ অনুসরণ করেই মহিলা এশিয়া কাপ জেতার পর নকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকার করেন হরমনপ্রীত কউররা। এই ঘটনায় মহাদেশীয় ক্রিকেটে নতুন করে জলঘোলা শুরু হলেও, ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে এই সমস্যার অবসান ঘটতে খুব বেশি দেরি নেই। কারণ এসিসির মসনদ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় দ্রুত ঘনিয়ে আসছে মহসিন নকভির।
পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি পদে মহসিন নকভির কার্যকালের মেয়াদ আর মাত্র দুই বছর বাকি রয়েছে। যদিও চুক্তিতে মেয়াদ বৃদ্ধির বিশেষ ধারা বা ‘ক্লজ’ রয়েছে, তবুও বর্তমান রাজনৈতিক ও ক্রিকেটীয় পরিস্থিতিতে এসিসির অন্যান্য সদস্য দেশগুলির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই তাঁর নেই। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক তীব্র কূটনৈতিক তিক্ততা এবং পিসিবি প্রধানের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বিসিসিআই যে কোনোভাবেই তাঁকে পুনরায় সমর্থন করবে না, তা অত্যন্ত স্পষ্ট। ফলস্বরূপ, নির্ধারিত মেয়াদের অবসান ঘটার পরেই তাঁর বিদায় নেওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
উল্লেখ্য, পাহালগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতবিরোধী একের পর এক আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে ভারতে চূড়ান্ত অপ্রিয় পাত্রে পরিণত হন মহসিন নকভি। এর আগে ২০২৫ পুরুষদের এশিয়া কাপে ভারতীয় দল তাঁর হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানালে বাধ্য হয়েই তাঁকে খালি হাতে স্টেডিয়াম ছাড়তে হয়েছিল। সাম্প্রতিক মহিলা এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে শিরোপা জেতার পরও ভারতীয় মহিলা দল সেই একই অনমনীয় অবস্থান বজায় রেখে পুরস্কার মঞ্চ বয়কট করে।
এসিসির নিয়ম অনুযায়ী, সভাপতি পদটি নিয়মিত বিরতিতে পূর্ণাঙ্গ সদস্য বোর্ডগুলির (ভারত, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা) মধ্যে আবর্তিত হয়। বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) প্রতি দুই বছরের জন্য একজন নতুন সভাপতি নির্বাচিত হন। নিয়ম অনুযায়ী কোনো একক দেশ পরপর দুটি পূর্ণ মেয়াদে এই দায়িত্ব ধরে রাখতে পারে না, যা মহসিন নকভির দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার পথ এমনিতেই বন্ধ করে দেয়।
যদিও এর আগে ভারতের জয় শাহ ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় চার বছর এই পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। জয় শাহ তাঁর মূল মেয়াদের সাথে দুটি এক বছরের বর্ধিত সময় পেয়েছিলেন, যেখানে তৎকালীন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট প্রধান শাম্মি সিলভা অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব সামলানোর পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে নকভি সভাপতির দায়িত্ব নেন। কিন্তু বর্তমান কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং এশীয় ক্রিকেটে ভারতের স্পষ্ট অবস্থানের সামনে মহসিন নকভির চুক্তি সম্প্রসারণের সেই সুযোগ আর একেবারেই নেই। একের পর aেক টুর্নামেন্টে ভারতীয় দলের ট্রফি বয়কটের কড়া বার্তার পর, আগামী ২০২৭ সালের এপ্রিলেই এসিসি সভাপতির পদ থেকে পিসিবি প্রধানের স্থায়ী বিদায় পাকা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।