ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার থেকে ড্রোন ধ্বংস—প্রতিরক্ষায় ইতিহাস গড়ল ভারত! তাক লাগাল বৈজ্ঞানিকদের এই আবিষ্কার

প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির দুনিয়ায় আত্মনির্ভরতার পথে আরও এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁল ভারত। দেশের শত্রুর রাডার ও মিসাইল ব্যবস্থাকে এক লহমায় বোকা বানাতে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO) সফলভাবে তৈরি করেছে অত্যাধুনিক GaN (গ্যালিয়াম নাইটরাইড) টেকনোলজি। এর ফলে ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তি যে বহুগুণ বেড়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।

এই বড় প্রতিরক্ষা সাফল্যের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ দিক একনজরে দেখে নিন:

  • মাত্র ৩ মিলিমিটারের ছোট্ট চিপের ক্ষমতা: ডিআরডিও-র তৈরি এক্স-ব্যান্ডে কাজ করার সক্ষম এই এস এম আই সি (MMIC) চিপটির আকার মাত্র ৩.৫×৩ মিলিমিটার। কিন্তু তা সত্ত্বেও এটি একাই ৩০ ওয়াট পর্যন্ত শক্তিশালী পাওয়ার দিতে সক্ষম, যা সাধারণ সিলিকন প্রযুক্তির তুলনায় প্রায় ৩০০ গুণ বেশি শক্তিশালী!

  • কোথায় ব্যবহার করা যাবে এই প্রযুক্তি? এই দেশীয় GaN টেকনোলজি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে রডার সিস্টেম, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার জ্যামার, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, নজরদারি সরঞ্জাম এবং ড্রোন সিস্টেমে ব্যবহার করা যাবে।

  • বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমল: এতদিন ধরে এই ধরনের অতি সংবেদনশীল ও আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর কম্পোনেন্টগুলির জন্য ভারতকে বহুলাংশে অন্য দেশের ওপর নির্ভর করতে হতো। এমনকি অনেক দেশ এর রপ্তানির ওপর কড়াকড়াও জারি করেছিল। কিন্তু এখন ভারত নিজেই এই প্রযুক্তি তৈরিতে পুরোপুরি সক্ষম।

  • এসএসপিএল-এর বড় অবদান: ডিআরডিও-র সলিড স্টেট ফিজিক্স ল্যাবরেটরি (SSPL) এই পুরো গবেষণার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে। তাঁরা সিলিকন কার্বাইড (SiC) ওয়েফার তৈরির নিজস্ব ও দেশীয় পদ্ধতিও সফলভাবে উদ্ভাবন করেছেন।

  • ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর বড় পদক্ষেপ: এই উন্নত সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে ‘আইডেক্স’ (iDEX) উদ্যোগের আওতায় দেশীয় স্টার্টআপ সংস্থার সঙ্গেও হাত মিলিয়ে কাজ করা হচ্ছে, যা ভারতের সামরিক শক্তিকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও অনেক শক্তিশালী করে তুলবে।

প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির এই অভাবনীয় অগ্রগতি আগামী দিনে ভারতীয় সেনার হাতকে আরও কতটা শক্তিশালী করে তোলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *