“মায়ের পায়ে ধরে ক্ষমা চান!” ভিটেমাটি দখলের চেষ্টা করতেই সন্তানকে ধমক সুপ্রিম কোর্টের, ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ

সন্তান মানে শুধু পিতা-মাতার সম্পত্তির অংশীদার হওয়া নয়, জন্মদাত্রীর প্রতি তার কিছু মৌলিক দায়িত্ব ও কর্তব্যও থাকে—সম্পত্তি সংক্রান্ত এক মামলায় এই ঐতিহাসিক পাঠই দিল সুপ্রিম কোর্ট। মাকে অপমান ও প্রতারণা করে সম্পত্তি দখলের চেষ্টার মামলায় এক পুত্রের আবেদন খারিজ করে শীর্ষ আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, অপরাধ স্বীকার করে ওই ব্যক্তির উচিত মায়ের পা ছুঁয়ে প্রণাম করে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া।

ঘটনাটি ঠিক কী?

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আবেদনকারী ব্যক্তি ও তাঁর স্ত্রী দিল্লির একটি বাড়ির একটি ফ্লোরে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন। বাড়িটির প্রকৃত মালিক ছিলেন ওই ব্যক্তির মা ও তাঁর প্রয়াত স্বামী। কোনো ভাড়া না নিয়েই ভালোবেসে ছেলেকে নিজের বাড়িতে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন মা। কিন্তু অভিযোগ, থাকার অনুমতি পাওয়ার পর থেকেই ওই দম্পতি মায়ের ওপর মানসিক নির্যাতন চালাতে শুরু করেন এবং পুরো বাড়িটি তাঁদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দিতে থাকেন।

পরবর্তীকালে মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, ভুয়ো ও জাল নথি তৈরি করে সম্পত্তিটি হাতানোর চেষ্টা করছিলেন ছেলে। সহ্যসীমা পেরিয়ে গেলে বাধ্য হয়ে ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর (FIR) করেন মা এবং তাঁদের দেওয়া আইনি অনুমতি পত্র বাতিল ঘোষণা করেন।

আদালতের কড়া অবস্থান ও নিম্ন আদালত থেকে সুপ্রিম কোর্ট:

বিষয়টি আইনি জটিলতায় পৌঁছলে ট্রায়াল কোর্ট এবং পরবর্তীতে দিল্লি হাইকোর্ট উভয় আদালতই মায়ের পক্ষে রায় দেয়। আদালত নির্দেশ দেয়, যেহেতু মা ও তাঁর স্বামীই এই সম্পত্তির আসল মালিক, তাই তাঁদের দেওয়া অনুমোদন রদ করার পূর্ণ আইনি অধিকার রয়েছে। অবিলম্বে ছেলে ও পুত্রবধূকে ঘর খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিযুক্ত পুত্র। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মা এবং বিচারপতি কোটিশ্বর সিং-এর যৌথ বেঞ্চ ছেলের এই আবেদন একঝটকায় খারিজ করে দেয়।

বিচারপতিদের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ:

মামলার শুনানি চলাকালীন শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দেয় যে, মা স্নেহের বশে সন্তানকে থাকতে দিয়েছিলেন। কিন্তু সন্তান সেই সুযোগের অপব্যবহার করে জাল নথির সাহায্যে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

শুনানির শেষভাগে বিচারপতিদের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে বলে, “যান, মায়ের পা ছুঁয়ে প্রণাম করুন এবং নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিন। মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে আসুন।”

সেই সঙ্গে আদালত ছেলে ও বউমাকে ওই ফ্লোর খালি করার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে এবং মায়ের যে আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি হয়েছে, তাও পূরণ করার নির্দেশ প্রদান করেছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *