সিদ্ধু মুসেওয়ালার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বাড়িতে ঝাঁঝরা করা গুলি! গ্যাংস্টার ডোনির অডিও ফাঁস হতেই তোলপাড় পাঞ্জাব

পাঞ্জাবের বরनाला জেলার ফরওয়াহি গ্রামে জনপ্রিয় পাঞ্জাবি গায়ক গোলাপ সিদ্ধুর পৈতৃক বাড়িতে মধ্যরাতে দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। শনিবার ও রবিবারের মধ্যবর্তী রাত আনুমানিক ১:৩০টা থেকে ২টো নাগাদ মোটরবাইকে চেপে আসা তিন অজ্ঞাতপরিচয় যুবক গায়কের বাড়ির মূল ফটক লক্ষ্য করে প্রায় ৭ থেকে ৮ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে।
ভাগ্যক্রমে এই ঘটনায় পরিবারের কোনো সদস্য আহত হননি। ঘটনার সময় গোলাপ সিদ্ধু তাঁর মিউজিক্যাল শো এবং লাইভ প্রোগ্রামের সূত্রে বিদেশে অবস্থান করছিলেন।
সিসিটিভিতে ধরা পড়ল হাড়হিম করা দৃশ্য
ঘটনার একটি মর্মান্তিক ভিডিও সিসিটিভি এবং মোবাইলে বন্দি হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একই বাইকে চেপে তিনজন যুবক গোলাপ সিদ্ধুর বাড়ির সামনে এসে থামে। বাইকের মাঝখানে বসা যুবকটি পিস্তল লোড করে গেটে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে, আর পেছনে বসা দ্বিতীয় যুবকটিও গুলি চালায়। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বাইক চালক তৃতীয় যুবকটি পুরো ঘটনার ভিডিও রেকর্ডিং করছিল। দুষ্কৃতীরা গুলি চালিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।
গ্যাংস্টার ডোনি বলের অডিও বার্তা ও মুসেওয়ালার স্মৃতি
ঘটনার পর একটি অডিও বার্তা প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে গ্যাংস্টার ডোনি বল গোলাপ সিদ্ধুর বাড়িতে এই গুলিবর্ষণের দায় স্বীকার করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে পুলিশ এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এই অডিওর সত্যতা খতিয়ে দেখছে।
উল্লেখ্য, গোলাপ সিদ্ধু প্রয়াত পাঞ্জাবি গায়ক সিদ্ধু মুসেওয়ালার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন। মুসেওয়ালার নৃসংশ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই গোলাপ সিদ্ধু ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি এবং তোলাবাজির (Extortion) ফোন পাচ্ছিলেন। সেই হুমকি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাঞ্জাব পুলিশ ইতিমধ্যেই তাঁকে দুজন সশস্ত্র নিরাপত্তা কর্মী প্রদান করেছিল।
চলতি বছরেই দ্বিতীয়বারের মতো হামলা!
গোলাপ সিদ্ধুকে লক্ষ্য করে অপরাধীদের হামলার চেষ্টা এই প্রথম নয়। এর আগে ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বরनाला পুলিশ গায়কের ওপর পরিকল্পিত হামলার ছক ব্যর্থ করে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল। সেই ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী ছিল কোটদুনা গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান (সরপঞ্চ) বলজিন্দর সিং (কিন্দা), যে গোলাপ সিদ্ধুর জনপ্রিয় গান ‘সরপঞ্চিয়াঁ’-র গীতিতে ক্ষুব্ধ ছিল। সে একটি লাইভ শো চলাকালীন গায়কের ওপর হামলা চালিয়ে আতঙ্ক তৈরি করতে চেয়েছিল, যাতে পরবর্তীতে মোটা টাকার তোলা আদায় করা যায়।
তদন্তে নেমেছে পুলিশ ও ফরেনসিক টিম
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই থানা সদর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ কর্তারা জানিয়েছেন, গ্রামের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ এবং প্রধান সড়কগুলিতে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরাগুলির ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে ফাঁকা কার্তুজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। পুলিশের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনানুগ কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।