“আমাদের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ অসম্ভব!” নারী বিতর্কের মাঝেই বড় বার্তা কেরালায় এই প্রবীণ স্কলারের, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

কেরালায় নারীদের প্রকাশ্য মঞ্চে পুরুষদের সাথে না থাকার নির্দেশিকা ঘিরে বিতর্ক অব্যাহত। এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা রাজ্যটির প্রবীণ ইসলামিক স্কলার কাণ্ডপুরম এ পি আবুবকর মুসলিয়ার এবার নিজের সংস্থাকে নিয়ে এক বড় বয়ান দিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁদের সংস্থা কারও রাজনৈতিক পছন্দ বা ব্যক্তিগত ইচ্ছায় চালিত হয় না এবং এই সংস্থার নেওয়া সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা অসম্ভব।
উল্লেখ্য, গত মাসে কাণ্ডপুরম আবুবকরের অধীনস্থ শীর্ষ সুন্নি সংস্থা ‘সমস্ত কেরালা জামিয়াতুল ওলামা’ একটি সার্কুলার বা নির্দেশিকা জারি করেছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠান বা মঞ্চে নারীদের পুরুষদের পাশাপাশি উপস্থিত থাকা উচিত নয়। এই সার্কুলারের তীব্র সমালোচনা করেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্ব।
“সংগঠন না থাকলে বিশ্বাসের অস্তিত্বই থাকত না”
শনিবার চেল্লামাডে আয়োজিত একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় কাণ্ডপুরম বলেন, “সমস্ত কেরালা জামিয়াতুল ওলামা হলো সুন্নিদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ ও দিকনির্দেশনা প্রদানকারী সর্বোচ্চ সংস্থা। এটি কেয়ামতের দিন পর্যন্ত তার কাজ চালিয়ে যাবে। আমি সকলকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, এই মহান সংস্থাটি এখানে না থাকলে আজ কোনো বিশ্বাসী মানুষ এখানে থাকতেন না। এই সংগঠনের অস্তিত্বের কারণেই আজ এত সুন্নি ধর্মাবলম্বীর উপস্থিতি সম্ভব হয়েছে।”
‘গভীর চিন্তাভাবনার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়’
রাজনীতিবিদদের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, “এই সংগঠন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের পছন্দ-অপছন্দ মেনে কাজ করে না। কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে কী প্রয়োজন, তা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এতদিন আপনারা ওলামাদের (ধর্মগুরুদের) পাশে যেমন ছিলেন, আশা করি ভবিষ্যতেও থাকবেন।”
অন্যদের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, “ওলামাদের নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তে বাধা দেওয়া বা তা বদলে দেওয়া কারও পক্ষে সম্ভব নয়। কোনো সিদ্ধান্ত জানানোর আগে আমরা বিস্তৃত আলোচনা করি, গভীরভাবে চিন্তা করি এবং ধর্মগ্রন্থ পরীক্ষা করি। সুতরাং কারও বাহ্যিক চাপে আমাদের সিদ্ধান্ত বদলানোর প্রশ্নই ওঠে না।”