মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মাঝে বিশ্বকে তাক লাগাল নয়াদিল্লি! মোদী কূটনীতির জাদুতে কাছাকাছি এল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এক ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করল ভারত। পশ্চিম এশিয়ায় চলা চরম উত্তেজনার মধ্যেই মোদী সরকারের সফল মধ্যস্থতায় প্রথমবারের মতো একই মঞ্চে একত্রিত হলেন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধি তথা আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালিদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ভারতের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক দূরদর্শিতার এক অন্যতম নিদর্শন।

শনিবার নয়াদিল্লিতে চলা এই ব্রিকস সম্মেলনের মূল আকর্ষণ ছিল ভারতের এই অভাবনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ইস্যুতে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে মতপার্থক্য ও দূরত্ব বজায় ছিল। কিন্তু ভারতের মধ্যস্থতায় এই দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের এক টেবিলে আনা সম্ভব হয়েছে। সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান একতরফা ও অমানবিক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ব্রিকস ফোরামকে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, বেসামরিক অবকাঠামো এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনার ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিশ্ব শান্তি বজায় রাখতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন তিনি।

এর আগে, নয়াদিল্লি সামিটে সর্বসম্মতিক্রমে ‘নয়া দিল্লি ঘোষণা ২০২৬’ গৃহীত হয়। ওই যৌথ ঘোষণাপত্রে পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং সমস্ত পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ফিলিস্তিন সংকটসহ আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ব্রিকস দেশগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের পক্ষে সওয়াল করেছে ভারত। সবমিলিয়ে, বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি বৈশ্বিক কূটনীতির ময়দানেও যে ভারত আজ প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে, ব্রিকস মঞ্চের এই সফল উদ্যোগ তারই প্রমাণ দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *