এক দেশ এক মুদ্রা নয়! ব্রিকসের সমান্তরাল কারেন্সি চালুর গুঞ্জনে জল ঢেলে দিল নয়াদিল্লি

ব্রিকস (BRICS) দেশগুলির জন্য আলাদা করে কোনো একক বা যৌথ মুদ্রা (Single Currency) চালুর সমস্ত জল্পনা এবার এক ধাক্কায় উড়িয়ে দিল ভারত। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের পর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেস ব্রিফিংয়ে বিদেশ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব সুধাকর দালেলা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ব্রিকসের নিজস্ব কোনো অভিন্ন মুদ্রা চালুর সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব এই মুহূর্তে আলোচনার টেবিলেই নেই। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের একাধিপত্য কমাতে ব্রিকস জোটের পক্ষ থেকে একটি অভিন্ন ডিজিটাল বা ফিয়াট কারেন্সি আনার গুঞ্জন জোরালো হয়েছিল। তবে সেই জল্পনা নাকচ করে বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে যে, জোটের সদস্য দেশগুলির মধ্যে সীমান্তপার বাণিজ্য এবং লেনদেন আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এর সঙ্গে কোনো যৌথ মুদ্রা চালুর দূরদূরান্তের কোনো সম্পর্ক নেই।

বিদেশ মন্ত্রকের সচিব সুধাকর দালেলা জানিয়েছেন, ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে নিজস্ব স্থানীয় মুদ্রায় (Local Currency) বাণিজ্য নিষ্পত্তির আলোচনা দীর্ঘ দিন ধরেই চলছে এবং এটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত একটি পদক্ষেপ। এর মূল উদ্দেশ্য বর্তমান আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থাকে রাতারাতি বদলে ফেলা বা কোনো নির্দিষ্ট মুদ্রাকে হঠিয়ে দেওয়া নয়। বরং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে লেনদেনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো এবং বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও পরিপূরক করে তোলার জন্যই এই স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

এদিকে, নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রেও ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। তবে এর জন্য সমস্ত সদস্য দেশের ওপর একই নিয়ম বা কোনো বাধ্যবাধকতা চাপানো হচ্ছে না। বর্তমানে ‘ব্রিকস পেমেন্ট টাস্ক ফোর্স’ (BPTF)-এর তত্ত্বাবধানে আন্তঃসীমান্ত পেমেন্ট এবং মেসেজিং চ্যানেলগুলির মধ্যে পারস্পরিক কার্যকারিতা বাড়ানোর কাজ চলছে। যার লক্ষ্য হলো আরও দ্রুত, কম খরচে এবং নিরাপদ একটি পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সবমিলিয়ে, একক কোনো ব্রিকস মুদ্রা আসছে না—ভারতের এই স্পষ্ট বার্তার পর আন্তর্জাতিক অর্থবাজারে জল্পনার মেঘ আপাতত কেটে গেল বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *