মৃত ভেবেছিল আমেরিকা, তবে কি বেঁচে আছে ওসামার উত্তরসূরি? ৯/১১-এর ২৫তম বার্ষিকীতে আল-কায়েদার ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য!

১১ সেপ্টেম্বর ২০০১—মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এবং রক্তাক্ত দিন। আজ থেকে ঠিক ২৫ বছর আগের এই দিনে আল-কায়দার সন্ত্রাসবাদীরা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারকে লক্ষ্য করে এমন এক নৃশংস তাণ্ডব চালিয়েছিল, যা গোটা পৃথিবীকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। আজও সেই আতঙ্কজনক মুহূর্তের কথা মনে পড়লে শিহরিত হয় বিশ্ববাসী। আর ঠিক এই ঐতিহাসিক দিনে, অর্থাৎ ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকীতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাদের হতবাক করে একটি নতুন ভিডিও প্রকাশ করেছে আল-কায়দা। আর সেই ভিডিওতেই দেখা মিলেছে ওসামা বিন লাদেনের ছেলে হামজা বিন লাদেনের, যাকে কিনা ২০১৯ সালেই মৃত বলে ঘোষণা করেছিল আমেরিকা।
৫০ মিনিটের ভিডিওতে রহস্যময় উপস্থিতি
আল-কায়দার অফিশিয়াল মিডিয়া উইং ‘আস-সিয়হাব’-এর পক্ষ থেকে ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৫০ মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। ‘এ কোয়ার্টার সেঞ্চুরি অফ দ্য ১১ সেপ্টেম্বর রেডস’ শিরোনামের এই ভিডিওতে একাধিকবার হামজাকে দেখা গেছে। গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে যে, তবে কি আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে হামজার মারা যাওয়ার খবরটি মিথ্যে ছিল? ভিডিওতে আল-কায়দার প্রয়াত প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহிரியের কিছু অদেখা ছবিও সামনে আনা হয়েছে।
ভিডিওর আসল উদ্দেশ্য কী?
সামনে আসা ওই ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, হামজা একটি ভাঙা মাটির দেওয়ালের পাশে বসে রয়েছে। তার মাথায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী সাদা পাগড়ি এবং পাশে রাখা একটি অ্যাসসল্ট রাইফেল। আল-কায়দার ইতিহাসে হামজাকে ভিডিও ফরম্যাটে দেখা যাওয়ার এটাই প্রথম ঘটনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আল-কায়দা এখনও জাওয়াহிரியের মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি এবং ঐতিহ্যবাহী শোকবার্তাও প্রকাশ করেনি। পরিবর্তে, এই ভিডিওর মাধ্যমে বর্তমান প্রধান সাইফ আল-আদলের আদর্শ প্রচার এবং বিশ্বজুড়ে নতুন সদস্য সংগ্রহের জন্য ‘বিন লাদেন’ পদবীর প্রভাবকে ফের কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ভিডিওটির শুরুতে আন্তর্জাতিক কোনো হামলার পরিবর্তে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে করাচি নৌঘাঁটিতে আল-কায়দা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS)-এর একটি আঞ্চলিক হামলাকে হাইলাইট করা হয়েছে।
২০১৯ সালে ঘোষণা হয়েছিল মৃত্যুর খবর
ওসামা বিন লাদেনের সবচেয়ে যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই দেখা হচ্ছিল হামজাকে। কিন্তু ২০১৯ সালে মার্কিন প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছিল যে, একটি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে তাকে খতম করা হয়েছে। যদিও সেই সময় মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর সপক্ষে বিস্তারিত কোনো প্রমাণ বা তথ্য জনসাধারণের সামনে আনা হয়নি। তবে ২৫ বছর পূর্তিতে প্রকাশিত এই নতুন ভিডিওটি আমেরিকার সেই পুরোনো দাবিকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। যদিও আল-কায়দা এই বিষয়ে মুখ খুলেনি।
৯/১১ হামলার ভয়াবহ স্মৃতি
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়দার ১৯ জন সন্ত্রাসী আমেরিকার চারটি যাত্রীবাহী বিমান হাইজ্যাক করেছিল। যার মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের জোড়া টাওয়ারে আঘাত হানে এবং মুহূর্তের মধ্যে ধূলিসাৎ হয়ে যায় টুইন টাওয়ার। তৃতীয় বিমানটি পেন্টাগনে এবং চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভেনিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে বিধ্বস্ত হয়।
এই ভয়ঙ্কর হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন মোট ২,৯৭৭ জন নিরীহ মানুষ। এই ঘটনার পরেই বদলে যায় বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মুড়ে ফেলা হয় গোটা পৃথিবীকে। ২৫তম বার্ষিকীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়, যেখানে পেন্টাগনের অনুষ্ঠানে অংশ নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঠিক এমন এক সংবেদনশীল সময়ে ওসামা-পুত্রের এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।