‘দেশে চলছে নাগপুর ও গুজরাট লবি’! ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস থেকে শুরু করে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক नाना পাটোলে

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (National Film Awards) অনুষ্ঠান গুজরাটে আয়োজন করা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের নেতা নানা পাটোলে। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে দেশের প্রতিটি বড় অনুষ্ঠান এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান গুজরাটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

নাগপুর ও গুজরাট লবি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য কংগ্রেস নেতা নানা পাটোলে দাবি করেছেন যে, বর্তমানে দেশে ‘নাগপুর লবি’ এবং ‘গুজরাট লবি’-র একচ্ছত্র আধিপত্য চলছে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন করার সাহস কারোর নেই। প্রসঙ্গত, জাতীয় পুরস্কার গুজরাটে নিয়ে যাওয়ার সমালোচনায় অভিনেতা পরেস রাওয়াল পালটা প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, গুজরাট কি পাকিস্তান বা বাংলাদেশ নাকি? এটিও তো দেশেরই অংশ। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পাটোলে অভিনেতা পরেস রাওয়ালকে ‘অন্ধভক্ত’ বলে কটাক্ষ করেন এবং দাবি করেন যে, গুজরাট লবির একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো সাহস তাঁর নেই। কেন জাতীয় পুরস্কারের মতো ঐতিহ্যশালী অনুষ্ঠান মুম্বই বা অন্য কোনো বড় শহরে আয়োজন করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী মোদি ও অমিত শাহের সফর নিয়ে তোপ শুধু পুরস্কার বিতর্কই নয়, ব্রিক্স সম্মেলন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নানা পাটোলে। তাঁর দাবি, চিন ও গালওয়ানের সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে কেন্দ্র কোনো সদুত্তর দিচ্ছে না। পাশাপাশি, ডলারের বিপরীতে টাকার পতন এবং এই জাতীয় আন্তর্জাতিক বৈঠকের আসল আউটপুট কী আসছে, তা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন তিনি।

পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আসন্ন মুম্বই সফরকে ঘিরেও বড় অভিযোগ এনেছেন এই কংগ্রেস নেতা। তাঁর দাবি, অমিত শাহ বারবার মুম্বইয়ে আসছেন কেবল শহরের জমি অন্বেষণ করতে এবং তা বিক্রি করার মতলব নিয়ে।

অন্যান্য রাজনৈতিক ইস্যু এই সংবাদ সম্মেলনে আরও বেশ কিছু সমসাময়িক বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন নানা পাটোলে:

  • স্কুলে পেঁয়াজ-রসুন নিষেধাজ্ঞা: তিনি বলেন, মানুষ কী খাবে বা খাবে না— তা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বিজেপি।

  • এমপিএসসি (MPSC) আন্দোলন: পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের চরম অবহেলা ও বারবার পেপার লিক হওয়ার কারণেই ছাত্রসমাজ আজ ফুঁসে উঠেছে।

  • বন্দে মাতরম বিতর্ক: কর্ণাটকে বন্দে মাতরমের দুটি অন্তরা গাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য, এতে ভুল কিছু নেই। কংগ্রেস স্বাধীনতার আগে থেকেই এই গান গেয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় রাখবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *