প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক মারধর থেকে রক্তারক্তি! শতাব্দী প্রাচীন স্কুলে এমন কান্ড ঘটিয়ে কড়া সাজা পেল ছাত্ররা?

মিড-ডে মিলের খাবার নিয়ে বিবাদ এবং তার জেরে প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে শতাব্দী প্রাচীন জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে। পরিস্থিতি এতটাই চরম আকার ধারণ করে যে রক্তারক্তি কাণ্ড বাধে এবং প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করতে গিয়ে রীতিমতো বেগ পেতে হয় পুলিশকে। এই ঘটনার পরই কড়া পদক্ষেপ করে বড় নির্দেশ দিলেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন।
কী ঘটেছিল জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে? গত ৮ সেপ্টেম্বর মিড-ডে মিলের খাওয়াকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ধর্মুচাঁদ বারুই এবং ছাত্রদের মধ্যে তীব্র বচসা ও হাতাহাতি শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, প্রধান শিক্ষককে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয় এবং তাঁর ঘরের কাঁচ ভাঙচুর করা হয়। এরপর পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ এসে আহত প্রধান শিক্ষক ও ছাত্রদের উদ্ধার করতে গেলে ছাত্ররা পুলিশের গাড়ি আটকে তুমুল বিক্ষোভ দেখায়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে।
শিক্ষামন্ত্রীর কড়া পদক্ষেপ: শুক্রবার জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে পরিদর্শনে আসেন শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। জেলাশাসক অদিতি চৌধুরী ও অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শিক্ষককে মারধরের ঘটনা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তিনি অভিযুক্ত ছাত্রদের শনিবারের মধ্যেই চিহ্নিত করে অবিলম্বে ‘ট্রান্সফার সার্টিফিকেট’ (TC) বা ছাড়পত্র দেওয়ার নির্দেশ দেন। মন্ত্রী জানান, ওই ছাত্ররা আর ওই স্কুলে পড়তে পারবে না, তবে শহরের অন্য কোনো স্কুলে গিয়ে তারা মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে পারবে। পাশাপাশি, এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।