তিন দিনে ১৫ মেগা বৈঠক! ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে কোন বড় কূটনৈতিক ছক কষছেন মোদি?

বিশ্বজুড়ে এক জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির আবহে শুরু হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত ব্রিকস (BRICS) সম্মেলন। এই বৈশ্বিক মহামঞ্চকে কেবল বহুপাক্ষিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রাপ্ত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর—এই তিনদিনের মধ্যে ব্রিকস সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষমন্ত্রীদের সঙ্গে মোট ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন তিনি। ইরান সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ভারত-চিন সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির টানাপোড়েনের মাঝে মোদির এই কূটনৈতিক ঝড়ের দিকে এখন তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।
তিন দিনের মেগা কূটনৈতিক সূচি:
-
১১ সেপ্টেম্বর (প্রথম দিন): রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ কৌশলগত আলোচনা দিয়ে বৈঠক শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতার মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক রয়েছে তাঁর। এছাড়া রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গেও কথা বলবেন তিনি।
-
১২ সেপ্টেম্বর (দ্বিতীয় দিন): ইথিওপিয়া, মালয়েশিয়া, আবুধাবি এবং ভিয়েতনামের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি এই দিনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং চর্চিত দিকটি হল চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল করার প্রক্রিয়ায় এই বৈঠক এক বিশাল মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
-
১৩ সেপ্টেম্বর (তৃতীয় দিন): শেষ দিনেও ঝড়ের গতিতে চলবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। কাজাখস্তান, ফিলিপিন্স, মিশর, দক্ষিণ আফ্রিকা, বুরুন্ডি, নাইজেরিয়া এবং উগান্ডার শীর্ষ রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে একে একে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট এবং বিশ্ব শক্তিগুলির ক্ষমতার ভারসাম্যের খেলায় ভারতের এই অবস্থান অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে চলেছে। পুতিন, পেজেশকিয়ান ও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকগুলি থেকে আগামী দিনে কোন বড় কূটনৈতিক বার্তা বেরিয়ে আসে, এখন সেটাই দেখার।