রাস্তা ও সেতুর নামবদল নিয়ে নবান্নের বড় পদক্ষেপ! কার্তিক মহারাজের নেতৃত্বে গঠিত হল বিশেষ কমিটি

রাস্তা, সেতু ও বিভিন্ন জনপরিসরের নামকরণ কিংবা পুরনো নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতি নির্ধারণ করতে রাজ্যস্তরে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ পরামর্শদাতা কমিটি গঠন করল নবান্ন। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, এই কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পদ্মশ্রী প্রাপক স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজকে (কার্তিক মহারাজ)। সদস্য হিসেবে এই কমিটিতে রাখা হয়েছে তথাগত রায় এবং মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের। ১১ সেপ্টেম্বর থেকেই নবান্নের এই নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে।
এর আগে কলকাতার পার্ক সার্কাসের সেভেন পয়েন্ট থেকে ডন বস্কো সার্কেল পর্যন্ত ৫০০ মিটার রাস্তা, যা এতদিন সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ নামে পরিচিত ছিল, তার নাম পাল্টে গোপাল মুখার্জি রোড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন বিরোধী শিবিরের শুভেন্দু অধিকারী। গত ২৩ জুন বিধানসভায় রাজ্যপালের ধন্যবাদজ্ঞাপক বক্তৃতা চলাকালীন শুভেন্দু অধিকারীই প্রথম এই বিষয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেছিলেন।
কমিটির কাজের পরিধি ও নিয়মাবলি:
-
যাচাইকরণ: রাজ্যের যেকোনো রাস্তা, স্ট্রিট, অ্যাভিনিউ বা সেতুর নামকরণ বা নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব এলে তার ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, ঐতিহ্যগত এবং জনস্বার্থের গুরুত্ব খতিয়ে দেখবে এই কমিটি।
-
ঐতিহাসিক সত্যতা: পুরনো বা ঐতিহ্যবাহী নাম পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রমাণ ও প্রাসঙ্গিক নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
-
অন্যান্য মাপকাঠি: বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অবদান, ভৌগোলিক পরিচিতি, নামের পুনরাবৃত্তি রোধ এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার দিকটিও যাচাই করা হবে।
-
বিশেষজ্ঞের মতামত: প্রয়োজনে এই কমিটি স্থানীয় প্রশাসন, পুরসভা, ইতিহাসবিদ এবং ঐতিহ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারিশ পাঠাবে।
তবে কলকাতা পুরসভার অধীনস্থ রাস্তার ক্ষেত্রে ১৯৭০ বা ১৯৮০-র আইন ও বিধান অপরিবর্তিত রেখেই কাজ করবে এই প্যানেল। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর এই কমিটিকে প্রশাসনিক ও সচিবালয় সংক্রান্ত সমস্ত সহায়তা প্রদান করবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নামকরণের এই নতুন নীতি নির্ধারণ আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে বেশ বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।