জর্ডনে মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ ইরানি হামলা! গুঁড়িয়ে গেল একাধিক ফাইটার জেট, চরম উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত নতুন মোড় নিল। জর্ডনের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। সিবিএস নিউজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার রাতের এই হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকটি বিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন ‘ওয়ারথগ’ নামে পরিচিত একটি ‘এ-১০ থান্ডারবোল্ট’ (A-10 Thunderbolt) অ্যাটাক এয়ারক্রাফটের একটি ডানা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পাশাপাশি, প্রায় আটটি ‘এফ-১৫’ (F-15) যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেগুলিকে পরে মেরামত করে কর্মক্ষম করা হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই আকস্মিক হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হননি।
হামলার নেপথ্যে কী কারণ?
ইরানি জলযানের ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর পূর্ববর্তী একটি হামলার বদলা নিতেই তেহরান এই পাল্টা আঘাত হেনেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওমান উপসাগর এবং পারস্য উপসাগরে আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) পাঁচটি ইরানি তেল ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবেই সেন্টকম এই পদক্ষেপ নিয়েছিল বলে জানা গেছে।
জর্ডনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভূমিকা
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা (IRNA)-র প্রকাশিত বিবৃতিতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, শাস্তিমূলক অভিযানের অংশ হিসেবেই জর্ডনের মার্কিন আল-আজরাক ঘাঁটিতে এই ভারী হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, জর্ডনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে এবং তার মধ্যে ১৮টিকেই আকাশে ধ্বংস করে। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে আছড়ে পড়ে।
ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। টেক্সাসের ডালাসে রওনা হওয়ার আগে ট্রাম্প বলেন, আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে এই সংঘাতের অবসান ঘটবে। তাঁর অভিযোগ, তেহরান ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের আশায় বসে আছে এবং মার্কিন ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, যাতে তারা এমন এক দুর্বল প্রশাসনকে ক্ষমতায় আনতে পারে যারা তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ করে দেবে। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন সামরিক অভিযানে ইরানি রাষ্ট্র ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ায় ওয়াশিংটনের আলোচনার জন্য কোনো তাড়া নেই।