শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় বড় গ্রেফতারি! সিআইডির জালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়

শালবনির বহুল আলোচিত জমি দুর্নীতি মামলায় এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল অপরাধ দমন শাখা (CID)। গ্রেফতারির পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে মেদিনীপুর জেলা আদালতে হাজির করানো হয়েছে। তদন্তকারী সূত্রে খবর, গ্রেফতারের পর থেকেই দফায় দফায় সুমিতকে জেরা করা হচ্ছে। তবে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক জটিল প্রশ্নের জবাবে তিনি সন্তোষজনক তথ্য দিতে পারেননি। এর আগে জেরার সময়ও তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছিল বলে দাবি গোয়েন্দাদের।

তদন্তের কেন্দ্রে কোন কোন প্রশ্ন?
সিআইডির গোয়েন্দারা এই মুহূর্তে মূলত কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। ঠিক কার নির্দেশে এবং কার ইশারায় কাজ করতেন সুমিত রায়? সেই সমস্ত নির্দেশ আসল উৎস কোথায় ছিল? এছাড়া গোটা আর্থিক লেনদেনের প্রক্রিয়ায় তাঁর ব্যক্তিগত বা দাপ্তরিক ভূমিকা ঠিক কী ছিল—এই সমস্ত দিক খুঁটিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আজ তাঁকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে আরও গভীরে গিয়ে জেরা করা যায়।

ইডির নজরেও সুমিত রায়
সিআইডির পাশাপাশি এবার এই ঘটনায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর নজরও সুমিত রায়ের দিকে ঘুরছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অতীতে তাঁকে তলব করেছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। পাশাপাশি, তৃণমূল কংগ্রেসের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত মামলার তদন্তেও তাঁর নাম নতুন করে উঠে এসেছে বলে ইডি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। যদিও এই নতুন মামলায় তাঁকে এখনও সরাসরি জেরা করা হয়নি, তবে সিআইডির হেফাজতে থাকা অবস্থায় পরবর্তী সময়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে ইডিও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে বলে জোর সম্ভাবনা রয়েছে।

রক্ষাকবচ বাতিল ও গ্রেফতারি
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পরেই শালবনির এই জমি দুর্নীতি মামলায় নড়চড় শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, তদন্তের শুরু থেকেই সিআইডিকে সহযোগিতা করছিলেন না সুমিত রায় এবং একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সমস্ত দিক বিবেচনা করেই শীর্ষ আদালতের তরফে তাঁর রক্ষাকবচ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার জেরে শেষ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *