মাছ-মাংস ভুলে যান! একবার এভাবে রাঁধুন ঠাকুরবাড়ির পোস্ত বেগুন, স্বাদ মুখে লেগে থাকবে

বাঙালির রান্নাঘরের ইতিহাস বড়ো সমৃদ্ধ। সেখানে আমিষ আর নিরামিষ দুই ধারাই সমানভাবে সমাদৃত। মাছ, মাংস বা ডিমের নানা পদের পাশাপাশি সুক্তো থেকে শুরু করে নানান শাকসবজির নিরামিষ পদও সমানভাবে জনপ্রিয়। সাধারণ নিরামিষ রান্নাতেও একটু অন্যরকম স্বাদ আনতে চাইলে বেছে নিতে পারেন এমনই একটি দারুণ রেসিপি। আজ আপনাদের জন্য রইল ঠাকুরবাড়ির স্টাইলে পোস্ত বেগুনের অভিনব এক পদ।
নিরামিষ রান্নার ক্ষেত্রে বেগুন অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সবজি। বেগুন ভাজা হোক কিংবা মুড়ি ও খিচুড়ির সঙ্গে গরম গরম বেগুনি, বাঙালির পাতে এগুলির জুড়ি মেলা ভার। তবে রোজকার একঘেয়ে বেগুন ভাজা বা চচ্চড়ি খেয়ে যদি মুখ ফিকে হয়ে থাকে, তবে ট্রাই করতে পারেন এই স্পেশ্যাল রেসিপি।
পোস্ত বেগুনের প্রয়োজনীয় উপকরণ:
বেগুন
পোস্ত
রসুন
মেথি
কাঁচা লঙ্কা
নুন ও হলুদ
সর্ষের তেল
রান্নার সহজ প্রণালী:
প্রথমে বেগুনগুলি ভালো করে ধুয়ে লম্বা লম্বা টুকরো করে কেটে নিন। এরপর কাটা বেগুনগুলিতে সামান্য নুন ও হলুদ মাখিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন যাতে জল বেরিয়ে যায়। অন্য একটি পাত্রে কিছুটা পোস্ত গরম জলে মিনিট পাঁচেক ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ভেজানো পোস্তর সঙ্গে কয়েকটি কাঁচা লঙ্কা একসঙ্গে বেটে পেস্ট তৈরি করে নিন। পাশাপাশি, কয়েক কোয়া রসুন থেঁতো করে আলাদা করে রাখুন।
এবার কড়াইতে পর্যাপ্ত তেল গরম করে নুন-হলুদ মাখানো বেগুনগুলো হালকা ভেজে তুলে নিন। কড়াইয়ের বাকি তেলে মেথি ফোরন দিন। ফোরন থেকে সুন্দর গন্ধ বেরোলে থেঁতো করা রসুন ও আগে থেকে বেটে রাখা পোস্তর পেস্টটি তেলের মধ্যে দিয়ে দিন। গ্যাসের আঁচ কমিয়ে মশলাটি কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করার পর সামান্য জল দিন। মশলা থেকে তেল আলাদা না হওয়া পর্যন্ত কষাতে থাকুন।
কষানো হয়ে গেলে ঝোলের জন্য প্রয়োজনমতো জল দিন। এরপর ভেজে রাখা বেগুন, চেরা কাঁচা লঙ্কা, স্বাদমতো নুন ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিন। সমস্ত উপকরণ ভালোভাবে নেড়ে ঢাকা দিয়ে কিছুক্ষণ ফুটতে দিন। জল শুকিয়ে মাখা মাখা হয়ে এলে উপর থেকে কাঁচা সর্ষের তেল ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। ব্যস, গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করার জন্য একদম তৈরি ঠাকুরবাড়ির স্বাদের পোস্ত বেগুন।