যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে বেনজির দুর্নীতি! সিবিআই তদন্তের দাবিতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের রাজনৈতিক উত্তেজনা স্তিমিত হওয়ার আগেই শিক্ষক ও কর্মী নিয়োগে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠল। ডেপুটি রেজিস্ট্রারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপোষণ এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে সঙ্ঘ সমর্থিত অধ্যাপক সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ’ বা ABRSM। পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে উপাচার্যকে চিঠি দিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদের মতো দায়িত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়োগের সময় যথাযথ নিয়ম মানা হয়নি। সংশ্লিষ্ট পদগুলিতে যাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কাজের পূর্বঅভিজ্ঞতা কীভাবে যাচাই করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা।
এছাড়া ভোট বা নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলাকালীন বলবৎ থাকা মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট উপেক্ষা করে কীভাবে এফইটি বা FET-এর সেক্রেটারি পদের জন্য ইন্টারভিউ সম্পন্ন হলো, তা নিয়েও তীব্র আপত্তি জানানো হয়েছে। গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপোষণ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং আর্থিক নয়ছয়ের মতো গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত মিলেছে বলে অভিযোগ করেছে ওই অধ্যাপক সংগঠন।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত সত্য সামনে আনতে সিবিআই, সিআইডি কিংবা অন্য কোনো নিরপেক্ষ তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করানোর দাবি জানানো হয়েছে। এর আগেও চলতি বছরের ১৫ মে এবং ১২ জুন এই একই দাবিতে উপাচার্যকে চিঠি দিয়েছিল ABRSM। গত বৃহস্পতিবার বিধানসভায় সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিল পেশ হওয়ার দিনেই ফের উপাচার্যের দপ্তরে নতুন চিঠি পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বা জুটার ভূমিকা নিয়েও প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই সমিতির অতীত ও বর্তমান কার্যক্রম খতিয়ে দেখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এর আগে যাদবপুর চত্বরে গেরুয়া সম্মান যাত্রায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিধানসভায় নতুন বিল পেশের সময়ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ অধ্যাপকের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বিরোধী দলনেতা। নিয়োগ সংক্রান্ত এই নতুন বিতর্ক যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।