“স্কুলের বন্ধু থেকে সোজা কোটি টাকার দুর্নীতির পান্ডা!”-CID জালে অভিষেকের ‘ডানহাত’

শালবনিতে প্রায় ৭০ একর সরকারি জমি জালিয়াতি ও দুর্নীতি মামলায় অবশেষে গ্রেফতার হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে তাঁর আইনি রক্ষাকবচ বাতিল হওয়ার পরেই তড়িঘড়ি আসরে নামে রাজ্য পুলিশের সিআইডি এবং স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। কলকাতার ১২১ নম্বর কালীঘাট রোড সংলগ্ন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ও সুমিতের নিজস্ব বাসস্থান সম্পূর্ণ ঘিরে ফেলে এই অভিযান চালানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত অভিষেকের বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শালবনির এই বহুল আলোচিত জমি কেলেঙ্কারি মামলায় এর আগে মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে খড়্গপুর স্টেশন থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। মূলত ভুয়ো দলিল ও জাল নথির মাধ্যমে প্রায় ২০০ বিঘা সরকারি জমি অবৈধভাবে বিক্রির চক্রে নাম জড়ায় সুজয় হাজরার। পরবর্তীতে তাঁকে জেরা করেই সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে তদন্তকারীদের হাতে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। রাজ্যের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে বিস্ফোরক তথ্য পেশ করেন। তিনি জানান, গত জুন মাসেই সুমিতের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭১ লক্ষ টাকা সহ মোট প্রায় ১৫ কোটি টাকা জমা হয়েছে, যার কোনও বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি অভিযুক্ত। এমনকি তদন্ত এড়ানোর জন্য সুমিত তাঁর নথিতে পদবীর ইংরেজি বানান বদলে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
অভিযুক্তের আইনজীবীদের করা জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সুপ্রিম কোর্ট থেকে রক্ষাকবচ উঠে যায়। আর তারপরেই আদালতের নির্দেশকে হাতিয়ার করে সিআইডি ও এসটিএফের যৌথ টিম সরাসরি কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে হানা দেয়। সেখান থেকেই সুমিত রায়কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সরাসরি ভবানীভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। এই চাঞ্চল্যকর গ্রেফতারির পর বিধানসভায় দাঁড়িয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এই ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে কড়া ভাষায় তোপ দেগেছেন।
তৃণমূলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, কলকাতার নবনালন্দা স্কুলে পড়ার সময় থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বাল্যবন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল সুমিতের। পরবর্তীকালে দল ক্ষমতায় আসার পর এবং ডায়মন্ড হারবার থেকে শুরু করে ক্যামাক স্ট্রিটের দলীয় কার্যক্রমে অভিষেকের চোখ ও কান হয়ে উঠেছিলেন এই সুমিত রায়। জেলা সংগঠনগুলির তদারকি থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁর প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। তবে দুর্নীতির এই বিরাট অভিযোগে আপ্তসহায়ক সরাসরি গ্রেপ্তার হওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে।