ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হচ্ছে দিল্লি! মোতায়েন হচ্ছে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম ও স্নাইপার কমান্ডো।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক ‘ভারত মণ্ডপম’-এ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন (BRICS Summit 2026)। বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রপ্রধান ও বিদেশি অতিথিদের আগমনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজধানীতে নজিরবিহীন ও মুড়ে ফেলা নিরাপত্তার চাদর বিছানো হয়েছে। নিরাপত্তার কড়া বেড়াজালে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা দিল্লিকে।
ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ও আধুনিক অস্ত্রের বহর
বিদেশি অতিথি এবং ভিভিআইপিদের নিরাপত্তায় এবার আকাশ ও মাটি— উভয় পথেই বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্বে রয়েছে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট গান, অত্যাধুনিক স্নাইপার এবং বিশেষ অ্যান্টি-সাবোটাজ টিম। নিরাপত্তার এই ব্লু-প্রিন্ট অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন নয়াদিল্লির সমস্ত উঁচু ভবনগুলিতে কমান্ডোদের সতর্ক অবস্থানে মোতায়েন থাকতে দেখা যাবে।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, এই মেগা ইভেন্ট সফল করতে রাজধানীতে ২৫ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ১০০-র বেশি এনএসজি কমান্ডো এবং ১,০০০-এর বেশি দিল্লি পুলিশের সোয়াট (SWAT) কমান্ডো নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন। গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর কড়া নজরদারি চালাতে প্রায় ৫০০টি সিসি ক্যামেরা এবং একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।
বিমানবন্দর থেকে হোটেল সর্বত্র কড়া নজরদারি
বিদেশি অতিথিরা বিমানবন্দর থেকে নামার পর তাঁদের হোটেল এবং সেখান থেকে সম্মেলনস্থল পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে থাকবে কড়া এসকর্ট ও সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থা। যে কোনও ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমকে। এছাড়া স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে যে, সম্মেলন চলাকালীন নির্দিষ্ট নিরাপত্তা এলাকায় ড্রোন বা অন্য কোনো অননুমোদিত উড়ন্ত বস্তু ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প রুট
ভিভিআইপি কনভয়ের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য দিল্লির ৩৫টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ২২টি ডাইভারশন পয়েন্ট তৈরি রাখা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থা সুচারুভাবে পরিচালনা করতে প্রায় ৫,০০০ ট্রাফিক কর্মী মোতায়েন থাকবেন। তবে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে যে, গোটা দিল্লিতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকছে না, কেবল ভিভিআইপি চলাচলের সময় নির্দিষ্ট কিছু রুটে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ ও ডাইভারশন করা হবে। মেট্রো পরিষেবাও স্বাভাবিক থাকবে। বিশ্বমঞ্চে ভারতের এই মর্যাদাপূর্ণ আয়োজনকে ত্রুটিহীন ও নিরাপদ করতে প্রশাসন কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ।