বর্ণদ্বেষী ট্রোলের মুখে পড়লেন বাঙালি শেফ! রাজপরিবার ও ভিভিআইপি অতিথিদের খাইয়ে দিলেন এমন মোক্ষম জবাব, যা দেখে চোখ কপালে উঠবে!

সোশ্যাল মিডিয়ায় কারও প্রতিভা বা মেহনতকে সাধুবাদ জানানোর যেমন ভালো মানুষ দেখা যায়, তেমনই আবার বিনা ভাবনায় অন্যের অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো মানুষেরও অভাব নেই। সম্প্রতি এমনই এক বর্ণদ্বেষী ও লজ্জাজনক ঘটনার শিকার হয়েছেন এক জনপ্রিয় শেফ। তবে ট্রোলিংকে এড়িয়ে না গিয়ে তিনি যেভাবে তার মোক্ষম জবাব দিয়েছেন, তা বর্তমানে নেটদুনিয়ায় রীতিমতো ঝড় তুলেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়?

কেরলের বিশিষ্ট শেফ কার্তিকেয়ন সেলভরাজ সম্প্রতি তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে স্ট্রিট-স্টাইল চিকেন ফ্রাইড রাইস তৈরির একটি দারুণ রেসিপি ভিডিও শেয়ার করেছিলেন। তাঁর রান্নার পদ্ধতি নেটিজেনদের ভীষণ পছন্দ হয় এবং ভিডিওটি লক্ষাধিক ভিউজও কুড়ায়। কিন্তু সেই ভিডিওর কমেন্ট বক্সেই ‘অঙ্কিত গুপ্ত’ নামের এক ট্রোলার তাঁর গায়ের রঙ এবং হাতের ত্বক নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে বসেন। ওই ব্যক্তি লেখেন যে, শেফের হাত নাকি বেশ কালো, তাই তিনি তাঁর হাতের রান্না খাবেন না।

শেফের চোখ ধাঁধানো ও মার্জিত জবাব

এই ধরনের বর্ণবিদ্বেষী ও অবমাননাকর মন্তব্যে চুপ থাকেননি শেফ কার্তিকেয়ন। বরং অত্যন্ত মার্জিত অথচ কড়া ভাষায় তিনি ট্রোলারকে এমন এক জবাব দেন, যা সকলের নজর কেড়েছে। শেফ এক নতুন পোস্টে তাঁর রান্নার কেরিয়ারের কিছু গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই ‘ডার্ক স্কিন’ বা কালো রঙের হাতের তৈরি খাবার খেয়েছে গোটা বিশ্বের নামী দামি ব্যক্তিত্বরা।

তিনি সগর্বে উল্লেখ করেন যে, তিনি ভারতের একাধিক রাষ্ট্রপতি, দেশের শীর্ষস্থানীয় সাংবিধানিক পদাধিকারী ব্যক্তিবর্গ, ব্রিটেনের প্রিন্স চার্লস এবং বেলজিয়ামের রাজার মতো অতি বিশিষ্ট ভিআইপি অতিথিদের নিজের হাতে রান্না করে খাইয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর এই সুনামের তালিকা এতটাই লম্বা যে তা ইনস্টাগ্রামের ডেসক্রিপশনেও শেষ করা সম্ভব নয়।

প্রতিবাদের বার্তা দিলেন শেফ

ট্রোলের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কার্তিকেয়ন বলেন যে, তাঁর উদ্দেশ্য কেবল একজন একক ট্রোলারকে শিক্ষা দেওয়া নয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, কারও গায়ের রং, শারীরিক গঠন বা রূপ নিয়ে ট্রোল করা বা বুলিং করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এই পেশার সঙ্গে যুক্ত তরুণদের এই ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন হীন মানসিকতা দেখানোর সাহস না পায়।

মূলত তামিলনাড়ুর বাসিন্দা কার্তিকেয়ন সেলভরাজ ‘তাজ গ্রুপ অফ হোটেলস’ থেকে নিজের কেরিয়ার শুরু করে চেন্নাই, কোচি ও মাদুরাইয়ে কাজ করেছেন। বর্তমানে ডিজিটাল দুনিয়ায় তাঁর ফ্যানের সংখ্যা আট লক্ষের বেশি। তাঁর এই ঘটনা ফের একবার প্রমাণ করে দিল যে, মানুষের আসল পরিচয় তার গায়ের রঙে নয়, বরং তার অসামান্য মেধা এবং কঠোর পরিশ্রমের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *