তেলের প্রধান রুট কি এবার হুথিদের কবজায়? কৌশলগত মোচা শহর দখল করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিল বিদ্রোহীরা!

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোচা শহরের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল ধমনী হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে বিদ্রোহীদের আধিপত্য বিস্তারের ফলে সৌদি আরবসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত এই জলপথে নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেন সরকারের তিনজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীকে হটিয়ে মোচা শহরের দখল নেয় হুথি যোদ্ধারা। এই শহরের নিয়ন্ত্রণ মূলত অত্যন্ত সংবেদনশীল বাব আল-মানদেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ সুনিশ্চিত করে। একই দিনে ইয়েমেন সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে একটি হামলা চালানো হয়, যদিও তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পান। স্থানীয়ভাবে তীব্র সংঘর্ষের পর ইয়েমেনি সেনাবাহিনী পিছু হটলে পুরো এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ চলে যায় বিদ্রোহীদের হাতে। মোচা দখলের পর হুথি যোদ্ধাদের উল্লাসের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাব আল-মানদেব প্রণালীর ওপর সম্পূর্ণ আধিপত্য বিস্তারের জন্য মোচা উপকূলের কাছে অবস্থিত পেরাম দ্বীপের দখল নেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল, যা দীর্ঘ চেষ্টার পর হুথিরা অর্জন করেছে। উল্লেখ্য, লোহিত সাগর ইয়েমেন ও আফ্রিকাকে পৃথক করেছে এবং এই জলপথটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। হরমুজ প্রণালীর মতোই বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এই পথটি অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে।
সম্প্রতি ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার পর বিকল্প হিসেবে সৌদি আরব বাব আল-মানদেব প্রণালী ব্যবহার করে দৈনিক প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি করত। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত নতুন মাত্রা নেওয়ায়, হুথিদের মাধ্যমে এই সামুদ্রিক পথটি নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল নিয়েছে তেহরান। বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় বারো শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই মান্দেব রুট দিয়েই পরিবাহিত হয়, ফলে এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হাতবদল হওয়া আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।