ঘুমানোর আগে ফোন ঘাঁটার ভয়ঙ্কর অভ্যাস! অজান্তেই মস্তিষ্কের বারোটা বাজাচ্ছেন না তো?

সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে রাতে বিছানায় শুয়ে একটু রিলস বা ভিডিও দেখার অভ্যাস আজকাল অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করছেন যে, আপনার এই ছোট বদভ্যাসটিই ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনছে। রাতে শোয়ার আগে স্ক্রিন টাইম বাড়িয়ে দেওয়ার ফলে শুধু ঘুমই নষ্ট হচ্ছে না, মারাত্মক প্রভাব পড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যের উপরেও।
কেন ব্যাহত হয় স্বাভাবিক ঘুম?
অনেকেরই ধারণা থাকে যে, রাতে দেরিতে ঘুমিয়ে সকালে যদি একটু বেশি বেলা পর্যন্ত ঘুমিয়ে নেওয়া যায়, তবে ঘুমের ঘাটতি মিটে যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। গভীর ঘুমের সময়েই মস্তিষ্ক সারা দিনের সমস্ত তথ্য সাজিয়ে গুছিয়ে নেয়, স্মৃতিশক্তি সংরক্ষণ করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলি মেরামত করে। কিন্তু ফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত ‘ব্লু লাইট’ বা নীল আলো আমাদের মস্তিষ্কে মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এই হরমোনটিই মূলত ঘুম আনতে সাহায্য করে। ফলে শরীরের প্রাকৃতিক ছন্দ বিঘ্নিত হয় এবং দীর্ঘক্ষণ ঘুমিয়েও সকালে ক্লান্তি কাটতে চায় না।
মস্তিষ্কের উপর ঘুমের অভাবের মারাত্মক প্রভাব
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে মানুষের স্মৃতিশক্তি এবং জটিল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা बुरीভাবে প্রভাবিত হয়। এর ফলে দেখা দিতে পারে নানা গুরুতর সমস্যা:
-
মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া এবং অতিরিক্ত উদ্বেগ বা মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাওয়া।
-
‘ব্রেন ফগ’ বা চিন্তাভাবনার স্বচ্ছতা হারিয়ে যাওয়া।
-
ছোটখাটো জিনিস ভুলে যাওয়া এবং মনোযোগের চরম ঘাটতি।
কোন লক্ষণগুলি দেখলে সাবধান হবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে কিছু প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলেই সতর্ক হওয়া জরুরি। যেমন—প্রচণ্ড ক্লান্তি থাকা সত্ত্বেও ঘুম না আসা, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরেও তরতাজা বোধ না করা, প্রায়শই মাথাব্যথা হওয়া কিংবা হঠাৎ করে মেজাজ হারিয়ে ফেলা। তাই সুস্থ থাকতে আজই রাতের বেলা ফোন ব্যবহারের অভ্যাস ত্যাগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।