পরিবেশ বাঁচানোর মহাশপথ! ৭৬তম বছরে বালিগঞ্জ কালচারালের ‘যোজন’ থিমে আসছে অবিশ্বাস্য চমক।

দুর্গোৎসব মানেই হাজারো নতুন ভাবনা, জমকালো আলো আর আলোর রোশনাইয়ে ভেসে যাওয়া চারপাশ। তবে আনন্দের এই স্রোতে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন ও পরিবেশবান্ধব বার্তা নিয়ে হাজির হচ্ছে কলকাতার অন্যতম কুলীন পুজো—বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। ৭৬তম বছরে পা দিয়ে তারা বেছে নিয়েছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক থিম, যার নাম ‘যোজন’। সম্প্রতি জমকালো এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই থিমের লোগো ও ভাবনা প্রকাশ্যে আনা হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন পুজো কমিটির সদস্যরা এবং বিশিষ্ট পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়।
কী রয়েছে ‘যোজন’ থিমে?
পরিবেশ সচেতনতা এবং বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার এক অভিনব মেলবন্ধন ঘটিয়েছে এই পুজো কমিটি। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল (যিনি ‘কানেক্টর’ নামেই সমধিক পরিচিত) তাঁর নিখুঁত শিল্পকলায় ফুটিয়ে তুলছেন এই ভাবনা। মানুষে মানুষে বন্ধন, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির মেলবন্ধনই এই থিমের মূল মন্ত্র। তবে শুধু মণ্ডপসজ্জাই নয়, বালিগঞ্জ কালচারালের আসল চমক লুকিয়ে রয়েছে তাদের পরিবেশ রক্ষার নানা পদক্ষেপে।
বর্জ্য থেকে কাজের জিনিস তৈরির উদ্যোগ
পুজোর কদিন শহরের এই মেগা পুজো প্রাঙ্গণে জঞ্জাল সাফাই ও পুনর্ব্যবহার নিয়ে নেওয়া হয়েছে এক বিরাট পরিকল্পনা:
-
ইকোভিলে (EcoVille): পুজোর সময় তৈরি হওয়া প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট ও বিস্কুটের র্যাপারের মতো সমস্ত প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে তা দিয়ে তৈরি হবে সুন্দর ফার্নিচার, ফুলদানি ও ঘরের নানা কাজের সামগ্রী। এমনকি পুজো প্রাঙ্গণের স্টল থেকেই সেগুলি বিক্রিও করা হবে।
-
পথচলা (PathChala): পুজোর সমস্ত ব্র্যান্ডিং ফ্লেক্স সংগ্রহ করে তা আপসাইকেল করা হবে। দক্ষিণ কলকাতার দুঃস্থ মেয়েদের হাতে সেই ফ্লেক্স দিয়েই তৈরি হবে আকর্ষণীয় টোট ব্যাগ, ফাইল অর্গানাইজার ও কোস্টার।
-
মল্লারপুর নৈসুবো ট্রাস্ট: পুজোর সময় জমে ওঠা ফেলে দেওয়া ফুল ও পুজোগুলির নির্মাল্য বা সামগ্রী সংগ্রহ করে তা বীরভূমে পাঠানো হবে। সেখানকার স্থানীয় মহিলারা সেই বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করবেন ভার্মিকম্পোস্ট বা উচ্চমানের জৈব সার, যা গৃহস্থালির বাগানের জন্য বাজারে বিক্রি করা হবে।
সব মিলিয়ে, জাঁকজমকের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এ বারের পুজোয় বালিগঞ্জ কালচারালকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেই মনে করছেন দর্শনার্থীরা।