আখক্ষেতে টেনে নিয়ে গিয়ে ভয়াবহ মৃত্যু! বিজনোরে চিতাবাঘের হামলায় প্রাণ গেল গৃহবধূর, এলাকায় চরম আতঙ্ক

উত্তর প্রদেশের বিজনোর জেলায় মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত প্রতিদিন নতুন করে ভয় ধরাচ্ছে। নাজিবাবাদ থানা এলাকার আলোপুর গ্রামে ববিতা নামের এক মহিলাকে আক্রমণ করে মেরে ফেলেছে একটি চিতাবাঘ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ববিতা গ্রামের কাছেই ছিলেন। সেই সময় হঠাৎ ঝোপের আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে তাঁর ঘাড় চেপে ধরে একটি আখক্ষেতে টেনে নিয়ে যায় হিংস্র প্রাণীটি।
মহিলাটির আর্তনাদ শুনে লাঠি ও নানা অস্ত্র নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন আশপাশের গ্রামবাসীরা। তাঁরা সাহসিকতার সঙ্গে আখক্ষেতে ঢুকে চিৎকার শুরু করলে চিতাবাঘটি বমিতাকে ছেড়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু ততক্ষণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। খবর পেয়ে পুলিশ এবং বন বিভাগের দল দ্রুত গ্রামে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
এই একটিমাত্র ঘটনায় থেমে নেই এই জেলার দীর্ঘস্থায়ী সংকট। স্থানীয় মানুষ এবং সরকারি তথ্য বলছে, গত তিন বছরে কেবল বিজনোর জেলায় চিতাবাঘের আক্রমণে ৬০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণ গেছে। এই এলাকার উঁচু আখক্ষেতগুলো চিতাবাঘের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠায় মাঠে কাজ করতে যাওয়া কৃষকরা রোজ মৃত্যুর মুখে পড়ছেন। বন দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, জেলার কৃষিজমিগুলোতে এখন প্রায় ৫০০-র বেশি চিতাবাঘ রয়েছে এবং এদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। দপ্তর থেকে দাবি করা হয়েছে যে পরিস্থিতি সামাল দিতে ১০০-র বেশি খাঁচা পাতা হয়েছে এবং প্রায় ১২০টি চিতাবাঘ ধরাও পড়েছে। তা সত্ত্বেও হামলা থামানো যাচ্ছে না।
এদিকে ভয়াবহ এই ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছানো নাজিবাবাদের সিও সুনীল কুমার সিং ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সামনে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট জানান যে পরিস্থিতি এখন নাগালের বাইরে চলে গেছে। বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে অবিলম্বে চার থেকে ছয়টি চিতাবাঘকে গুলি করে মারার ব্যবস্থা করা উচিত। এক পুলিশ কর্মকর্তার মুখে এমন মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে আলোপুরসহ গোটা অঞ্চলের মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক এবং ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও বন বিভাগ এই সমস্যার স্থায়ী কোনো সমাধান করতে পারেনি। অবিলম্বে এই নরখাদক চিতাবাঘটিকে পাকড়াও করা না হলে বড় ধরনের গণআন্দোলন ও বিক্ষোভের পথ বেছে নেবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গ্রামবাসীরা।