সমোসা দিতে সামান্য দেরি! ক্ষিপ্ত গ্রাহক দলবল নিয়ে এসে যা করল, দেখলে শিউরে উঠবেন

হরিয়ানার রেওয়ারি (Rewari) জেলা থেকে এক অত্যন্ত শিহরণ জাগানো ও নজিরবিহীন হিংসার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। নারনৌল ন্যাশনাল হাইওয়ে-১১ এর কুন্দ बैरियरের কাছে অবস্থিত ‘নিউ বিকানেরি রেস্তোরাঁ’-তে সামান্য সমোসা দিতে একটু দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, এক রাগী গ্রাহক তার সাগরেদদের ডেকে এনে সোজা রেস্তোরাঁ মালিক ও কর্মীদের ওপর নৃশংস হামলা চালায়। শুধু তাই নয়, যাওয়ার সময় গোটা রেস্তোরাঁয় ব্যাপক ভাঙচুরও চালায় অভিযুক্তরা। এই পুরো পৈশাচিক ঘটনাটি রেস্তোরাঁয় লাগাতার চালু থাকা সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরায় একেবারে পরিষ্কারভাবে ধরা পড়েছে।
ঠিক কী কারণে হয়েছিল এই বিরোধ?
গুড়গাঁও জেলার তালপুরি গ্রামের বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সি যতীন কুন্দ ব্যারিয়ারের কাছে এই ‘নিউ বিকানেরি রেস্তোরাঁ’ পরিচালনা করেন। যতীনের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে এক ব্যক্তি তাঁর দোকানে সমোসার অর্ডার দিতে আসেন। তবে সেই মুহূর্তে রেস্তোরাঁয় অতিরিক্ত ভিড় থাকায় কর্মচারীরা অর্ডারটি তৈরি করতে সামান্য সময় লাগবে বলে জানান। এমনকি যতীনের ছোট ভাই অমন ওই গ্রাহককে এও বুঝিয়ে বলেন যে, তাঁদের দোকানে হোম ডেলিভারির কোনো ব্যবস্থা নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওই ব্যক্তি জোর করে সমোসা প্যাক করে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
রাতে দলবল নিয়ে এসে ভয়ংকর তাণ্ডব
প্রথম দফায় কথা কাটাকাটির পর ওই ক্রেতা চলে গেলেও অশান্তি সেখানে থামেনি। যতীন জানান, একই দিনে রাত প্রায় আটটা নাগাদ সেই একই ব্যক্তি তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গদের নিয়ে ফের দলবল নিয়ে সোজাসুজি রেস্তোরাঁয় চড়াও হয়।
দোকানে ঢুকেই অভিযুক্তরা অমনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মারধর শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দোকানের অন্য কর্মীরা এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও চড়াও হয় হামলাকারীরা। খবর পেয়ে শেষ পর্যন্ত মালিক যতীন নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁকেও রেয়াত করা হয়নি। এই হিংসাত্মক হামলায় যতীন এবং তাঁর ভাই অমন দুজনেই গুরুতর জখম হন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে রেওয়ারির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সিসিটিভিতে বন্দি দাদাগিরির দৃশ্য
মারধরের পাশাপাশি দুষ্কৃতীরা রেস্তোরাঁর কাউন্টার এবং অন্যান্য জিনিসপত্র যথেচ্ছ ভাঙচুর করে বিপুল আর্থিক ক্ষতিসাধন করে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই গোটা ঘটনার প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হয়েছে দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে, যেখানে হামলাকারীদের বেপরোয়া ও হিংস্র রূপ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী মালিক পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, ঘটনার বেশ কিছুদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনও কোনো এফআইআর বা শক্ত পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগী।