পুতুল বানিয়ে জয়িতাকে দিয়ে করালেন এই কাজ! তনুশ্রীর ব্যক্তিগত সামগ্রী ফেলার নেপথ্যে কোন বড় ষড়যন্ত্র?

রিয়েলিটি শোয়ের ঘরের অন্দরে এখন নাটকীয় টানটান উত্তেজনা। সহপ্রতিযোগীকে খাঁচা থেকে বাইরে বার করতে এক সুদূরপ্রসারী চাল চেলেছেন রাজবীর। তাঁরই উসকানিতে সতীর্থকে ঘায়েল করার এই মাস্টারপ্ল্যান এখন টক অব দ্য টাউন।

খেলায় তনুশ্রীকে লাইমলাইট থেকে সরাতে এবং মেজাজ হারাতে বাধ্য করতে জয়িতাকে হাতিয়ার করেন রাজবীর। জয়িতাকে রীতিমতো উসকে তিনি পরামর্শ দেন, রাগ গিয়ে যেন সোজাসুজি তনুশ্রীর ওপর দেখানো হয়। রাজবীরের এই চালেই পা বাড়িয়ে গেমের ঘরে ঢুকে পড়েন জয়িতা। তনুশ্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে নিজের ক্ষোভ সামলাতে না পেরে তনুশ্রীর টয়লেট্রি ব্যাগ সটান বাইরে ছুড়ে ফেলেন তিনি। ওই ব্যাগে থাকা স্যানিটারি ন্যাপকিনও মেঝেময় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে, যা নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি চরমে ওঠে।

এই অপমানজনক পরিস্থিতিতে ফ্লোরে ছড়িয়ে থাকা ব্যক্তিগত সামগ্রী দেখে মনামী সঙ্গে সঙ্গে তা গোছাতে এগিয়ে যান। কিন্তু খাঁচায় বন্দি তনুশ্রী তাতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে চিৎকার করে ওঠেন এবং কেউ যাতে তাঁর জিনিসে হাত না দেন, সেই মর্মে আপত্তি জানান। স্যানিটারি প্যাড ছড়িয়ে থাকা প্রসঙ্গে তনুশ্রী সাফ জানান, এতে লজ্জার কিছু নেই, এটি সবারই প্রয়োজনীয় বিষয়। এদিকে ঘরের বাকি সদস্যরা—ভরত, সোহিনী, সৃজলা এবং দীপেন্দু বিশ্বাস একযোগে জয়িতার এই চরম অসংবেদনশীল আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে দেখলে নিজের পাতা ফাঁদ স্বীকার করতে পিছপা হননি রাজবীর। বুক ফুলিয়ে তিনি জানিয়ে দেন, এই সমস্তটাই ছিল তাঁর নিখুঁত ‘গেম প্ল্যান’। রাজবীরের এমন নির্লিপ্ত স্বীকারোক্তিতে ঘরের বাকি প্রতিযোগীরা আরও বেশি ক্ষুব্ধ হন। সৃজলা ও মনামী সরাসরি জয়িতাকে সতর্ক করে বোঝান যে, রাজবীর আড়ালে থেকে তাঁকে স্রেফ হাতের পুতুল হিসেবে ব্যবহার করে নিজের ফায়দা তুলছেন, অথচ সবার সামনে বদনাম হচ্ছে একমাত্র তাঁরই।

অন্যদিকে, রাজবীরের এই চালবাজি ও মোড়লিপনা নিয়ে প্রতিযোগীদের সঙ্গে তাঁর সংঘাত এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ক্যাপ্টেন্সি টাস্কে তাঁর নানা নিয়ম এবং কটূক্তির প্রতিবাদে ফুঁসছেন বাকিরা। ঘরে এই মুহূর্তে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করলেও দর্শকদের একাংশের মতে, এই সমস্ত টুইস্ট ও নাটকীয় সংঘাতই রিয়েলিটি শোয়ের আসল উত্তাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *