ফরাক্কায় জারি কমলা সতর্কতা! জলের তোড়ে ভাসতে পারে একাধিক নিচু এলাকা, প্রশাসনের তৎপরতা তুঙ্গে

গঙ্গার উচ্চ অববাহিকায় জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং বিপদসীমা অতিক্রম করায় চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে ফরাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেটই খুলে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কিছু গেট এই মুহূর্তে আংশিকভাবে খোলা রয়েছে। সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ফরাক্কায় আপস্ট্রিমে গঙ্গার জলস্তর বর্তমানে বিপদসীমার প্রায় দেড় মিটার উপর দিয়ে বইছে। ব্যারেজ থেকে এই মুহূর্তে রেকর্ড ১৫ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে, যার সিংহভাগই বইছে ভাগীরথী নদী ও ফিডার ক্যানেলের ওপর দিয়ে।
জল ছাড়ার এই তীব্রতার জেরে আহিরণ থেকে শুরু করে ভাগীরথীর নিম্ন অববাহিকায় জলের উচ্চতা হুহু করে বাড়তে শুরু করেছে। সুতি, সামশেরগঞ্জ, রঘুনাথগঞ্জ, সাগরদিঘি এবং জিয়াগঞ্জ সহ ভাগীরথী তীরবর্তী বিভিন্ন নিচু এলাকায় ইতিমধ্যে জল ঢুকতে শুরু করায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। নদীপারের বাসিন্দাদের সতর্ক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে এবং জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা। পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের সম্পূর্ণভাবে নদীতে নামতে নিষেধ করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, ফরাক্কা ব্যারেজের জলধারণ ক্ষমতা সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় এই চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যারেজের সমস্ত গেট খোলা রাখা হয়েছে এবং এই সংকটজনক পরিস্থিতি আগামী দুই থেকে তিন দিন বজায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দু’দিনের মধ্যে গঙ্গার জলস্তর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করতে পারে। আপ স্ট্রিমে জলস্তর নামলে তবেই খুলে রাখা গেটগুলি ধীরে ধীরে বন্ধ করা হবে। এদিকে মালদা সহ সংলগ্ন জেলাগুলিতে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য প্রশাসন ও সেচ দফতর সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।