ফ্রিজে নামী দোকানের মাটন বিরিয়ানি, কিন্তু খবরের কাগজে তার লাইসেন্স বাতিল! মহা বিপদে অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়

শহরের খাদ্য নিরাপত্তার চাবুক যখন নামীদামি সব ফুড জয়েন্ট এবং জনপ্রিয় মিষ্টির দোকানগুলোর ওপর নেমে এসেছে, ঠিক তখনই নিজের অনন্য রসবোধ দিয়ে পুরো সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসির রোল তুলেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। সম্প্রতি কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের প্রায় ৪০টি নামী রেস্তোরাঁ ও খাদ্যপ্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল বা সাসপেন্ড হওয়ার খবরে যখন রাজ্যজুড়ে তোলপাড়, ঠিক সেই মুহূর্তে অভিনেতার ফেসবুক পোস্ট রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গেছে।
ঘটনা হলো, শহরের একাধিক নামী বিরিয়ানি ও খাবারের দোকানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর সাধারণ খাদ্যরসিকদের মনে যখন মারাত্মক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই অনিন্দ্যর জীবনে নেমে এসেছে এক মহা-ধর্মসংকট। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক রসাত্মক পোস্টে তিনি লিখেছেন যে, গতকালই তাঁর এক বন্ধু অত্যন্ত ভালোবাসার সঙ্গে এক নামী দোকানের মাটন বিরিয়ানি তাঁকে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছেন। কিন্তু আজ সকালেই খবরের কাগজের পাতা খুলতে গিয়ে তিনি দেখেন, ওই নির্দিষ্ট দোকানটিই রয়েছে ‘কেস খাওয়া’ বা সাসপেন্ড হওয়া রেস্তোরাঁগুলির তালিকার শীর্ষে!
আর তাতেই বেধেছে বিপত্তি। কোন পথে হাঁটবেন বুঝতে না পেরে অনিন্দ্য রসিকতার সুরে লিখেছেন, “আমার একটা প্রশ্ন আছে। আজকে এতগুলো দোকান কেস খেলো। তার মধ্যে একটার একটা মাটন বিরিয়ানি আমার ফ্রিজে আছে। এক বন্ধু গতকাল পাঠিয়েছিল। এখন ভাবছি, খাবো কিনা? খাওয়া উচিত? নাকি খেয়েই নিই? নাকি সোজা ফেলে দিই? বন্ধুত্ব বনাম ফুড সেফটি। ফুল কনফিউসড।”
অভিনেতার এই খাঁটি বাঙালি ঘরানার চটজলদি রসিকতা নিমেষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায়। ‘দোস্তির খাতিরে পেট খারাপ’ সহ্য করা উচিত নাকি ‘পেটের টানে বন্ধুকে বিসর্জন’ দেওয়া দরকার—এই নিয়ে কমেন্ট বক্সে মজার সব পরামশ দিতে শুরু করেছেন নেটিজেনদের একাংশ। কেউ রসিকতা করে লিখেছেন, “বন্ধুত্ব অমর থাকুক, আগে খেয়ে দেখুন পেট লাইসেন্স বাতিল করে কিনা!” আবার কেউ একেবারে সাবধানী সুরে পরামর্শ দিয়েছেন, “ফুড সেফটি ফার্স্ট, বন্ধুকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্যাকেটটা সোজা ডাস্টবিনে চালান করুন!” সব মিলিয়ে, শহরের খাদ্য বিতর্কের মাঝেও অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের এই কৌতুকভরা পোস্ট নেটপাড়ার অনুরাগীদের মুখে চওড়া হাসি ফুটিয়েছে।