খাবার খাওয়ার স্পিডেই লুকিয়ে রয়েছে আপনার আসল চরিত্র! জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে মনের অজানা গোপনীয়তা

খাবারের টেবিলে একটু নজর করলেই দেখবেন, অনেকে খুব জলদি জলদি খাবার শেষ করে ফেলেন। বন্ধুদের আড্ডায় বাকিদের প্লেটে যখন খাবার রয়ে গেছে, তখন তাঁদের থালা ফাঁকা! ব্যস্ত জীবনযাত্রা কিংবা ছোটবেলার অভ্যাসের জেরে অনেকের মধ্যেই জলদি খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। তবে মনোবিদদের মতে, মানুষের খাওয়ার এই গতির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ের গভীর যোগসূত্র রয়েছে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, যাঁরা খুব দ্রুত খান, তাঁরা সাধারণত দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে পছন্দ করেন না। লম্বা লাইনে দাঁড়ানো কিংবা মন্থর গতির কোনো মিটিং তাঁদের কাছে চরম বিরক্তির বিষয়। জীবনের প্রতিটি কাজ তাঁরা দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করতে ভালোবাসেন। সবসময় সময়ের অভাব বোধ করা এবং সেই তাড়া অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রেও প্রকাশ পাওয়া তাঁদের স্বভাবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

তবে দ্রুত খাবার খাওয়ার নেতিবাচক দিকও কম নয়। চিকিৎসকদের মতে, পেট ভরে যাওয়ার সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছাতে কিছুটা সময় নেয়। কিন্তু যাঁরা খুব দ্রুত খান, সেই সংকেত পৌঁছানোর আগেই তাঁরা প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই বেশি খাবার খেয়ে ফেলেন, যা পরবর্তীতে হজমের গোলমালসহ নানা শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে। তাছাড়া, দ্রুত খাবার খাওয়ার সময় অনেকেই একসঙ্গে ফোন স্ক্রোল করা বা অফিসের কাজ করার মতো বহুস্তরের কাজ বা মাল্টিটাস্কিং করতে পছন্দ করেন, যার ফলে খাবারের প্রতি কোনো মনোযোগ থাকে না।

খাওয়ার এই গতির পেছনে ছোটবেলার অভ্যাস, পরিবারের রুটিন, কাজের চাপ বা মানসিক উদ্বেগের মতো নানা কারণ জড়িয়ে থাকতে পারে। তাই কাউকে দ্রুত খেতে দেখেই তাঁকে অধৈর্য বা বদমেজাজি মানুষ হিসেবে দেগে দেওয়া একেবারেই ঠিক নয়। সুস্থ থাকতে এবং পেটের সঙ্গে মনের সঠিক সংযোগ স্থাপন করতে মাঝেমধ্যে একটু সময় নিয়ে ধীরেসুস্থে খাবার চিবিয়ে খাওয়া এবং তার স্বাদ উপভোগ করা অত্যন্ত জরুরি।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *