১২ সেপ্টেম্বরের হাইভোল্টেজ ডিএ বৈঠক কি তবে বাতিল? হঠাৎ কেন তৈরি হলো এই বড় ধোঁয়াশা?

বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) ইস্যুতে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাইভোল্টেজ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নির্ধারিত এই বৈঠকের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসতেই তা বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্যজুড়ে চরম জল্পনা শুরু হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন বিশেষ মনিটরিং কমিটি, মামলার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির আইনজীবী এবং কর্মচারী প্রতিনিধিদের নিয়ে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। রাজ্য অর্থ দফতরের উদ্যোগে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে বিকেল ৫টায় এই বৈঠক বসার কথা ছিল। গত ৩ সেপ্টেম্বর অর্থ দফতরের আইন শাখার তরফে চিঠি দিয়ে এই বৈঠকের কথা জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি, কর্মচারীদের প্রতিনিধিরা বৈঠকে কী বলবেন বা তাঁদের কী প্রস্তাব রয়েছে, তার প্রাথমিক বক্তব্য গত ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই আদালত কর্তৃক গঠিত কমিটিকে ইমেল করে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু হঠাৎ কেন এই বৈঠক ঘিরে সংশয় তৈরি হলো? ওয়াকিবহাল মহলের খবর, আগামী ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিকস (BRICS) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের জেরে ওই দিনগুলিতে দিল্লির সমস্ত সরকারি অফিস বন্ধ থাকার পাশাপাশি সাধারণ গতিবিধির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও কড়াকড়ি জারি করা হবে। আর সেই কারণেই আগামী ১২ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত দিনে নয়াদিল্লিতে এই গুরুত্বপূর্ণ ডিএ বৈঠকটি আদৌ অনুষ্ঠিত হতে পারবে কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে প্রশাসন বা সরকারের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক আপডেট বা স্থগিতােদেশের কথা জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট শীর্ষ আদালতের পক্ষ থেকে কর্মচারী সংগঠনগুলির তরফে ১০ জন প্রতিনিধির নাম অনুমোদন করে দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ভাস্কর ঘোষ ও অভিজিৎ উপাধ্যায়, কনফেডারেশন অফ স্টেট গভঃ এমপ্লয়িজ-এর ফিরদৌস শামিম, গোপা বিশ্বাস ও শ্যামল কুমার মিত্র, নিউ ইউনিটি ফোরামের করুণা নন্দী, বিপুল কুমার ও মৃন্ময় শ্রীমানী এবং ওল্ড ইউনিটি ফোরামের প্রবীর চ্যাটার্জি ও দেবপ্রসাদ হালদারের নাম রয়েছে। ব্রিকস সম্মেলনের নিরাপত্তার কড়াকড়ির মাঝে এই প্রতিনিধিরা নির্ধারিত দিনে বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি পৌঁছাতে পারবেন কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে সকলের।