চোখের পলকেই গায়েব বর্তমান যুগ! টাইম মেশিন ছাড়াই এই উপায়ে ফিরে যান সোজাসাপ্তা ১৯৮০-র দশকে

টাইম মেশিন বা কালজাগতিক যন্ত্র ছাড়াই যদি চোখের পলকে চার দশক অতীতে চলে যাওয়া যায়, তবে কেমন হবে বলুন তো? আজ থেকে ঠিক চল্লিশ বছর আগে আপনার জন্ম হলে দেখতে ঠিক কেমন লাগত, তা এবার নিমিষেই ফুটিয়ে তুলতে পারে এআই বা কৃত্রিম মেধা। ফোনের সাধারণ কোনো ঝাপসা ফিল্টার নয়, চ্যাটজিপিটির নিখুঁত ছোঁয়ায় ছবিতে এখন জীবন্ত হয়ে উঠছে আশির দশকের আসল ম্যাজিক, ফিল্ম ক্যামেরার হালকা দানা ভাব এবং মনকাড়া সব রঙের ছোঁয়া।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজের মুখের আসল অবয়ব ও গড়ন একদম ঠিক রেখে তৈরি করে নেওয়া যাচ্ছে তাক লাগানো সব পুরোনো দিনের ছবি। বিশেষ করে আশির দশকের ভারতীয় সাজপোশাকের বদলগুলো রীতিমতো চোখ জুড়ানোর মতো। মহিলাদের ছবিতে ফুটে উঠছে চড়া রঙের সিল্কের শাড়ি, মাথায় বড় কোঁকড়ানো চুল ও বাহারি গয়না। অন্যদিকে পুরুষদের রূপ যেন সোজা সেই জমানার চকোলেট বয় হিরো, যাঁদের পরনে চওড়া কলারের শার্ট, উঁচু কোমরের প্যান্ট আর নাকের নিচে খাসা একখানা পাতলা গোঁফ!
যে যে মজাদার রূপে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে পারেন:
বলিউড স্টুডিও পোর্ট্রেট: পুরনো দিনের পোস্টারের মতো আলো-আঁধারির ছোঁয়ায় নিজেকে পুরোপুরি নায়ক বা নায়িকা হিসেবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন।
পারিবারিক অ্যালবাম: বসার ঘরে সোফায় বসে থাকা সেই চেনা ঘরোয়া পারিবারিক অ্যালবামের নস্টালজিক মেজাজে ফিরে যাওয়া যাবে সহজেই।
আশির দশকের হিরো বা হিরোইন: জমকালো শাড়িতে রেখা কিংবা মানানসই পোশাকে মিঠুন চক্রবর্তীর মতো চিরকালীন স্টার লুক তৈরি করা সম্ভব।
১৯৮০ সালের বিয়েবাড়ি: সেই সময়ের বিয়ের মণ্ডপ, ঝোলানো গাঁদা ফুলের মালা আর পুরনো রঙের অ্যালবামের মেজাজে বানিয়ে ফেলা যায় বিয়ের ছবি।
ম্যাগাজিন কভার ও দূরদর্শন লুক: সিনেমার রঙিন পত্রিকার প্রচ্ছদ হোক বা পুরনো দূরদর্শন চ্যানেলের শান্ত মিষ্টি সংবাদপাঠকের লুক—মুহূর্তেই মিলবে সেই বিশেষ স্বাদ।
১৯৮৭ সালের রাস্তা: ১৯৮৭ সালের ভারতের ব্যস্ত রাস্তা, অ্যাম্বাসেডর গাড়ি, স্কুটার ও পুরোনো সাইনবোর্ডের ভিড়েও ক্যামেরার সামনে নিজেকে হাজির করা যাবে।
কীভাবে বানাবেন নিজের এই বিশেষ ছবি?
পুরো পদ্ধতিটি অত্যন্ত সহজ। প্রথমে চ্যাটজিপিটি-তে নিজের একটি স্পষ্ট ছবি আপলোড করতে হবে। এরপর চ্যাটবটকে লিখে জানাতে হবে যে আপনি ঠিক কোন ঢঙে আশির দশকের রূপটি পেতে চাইছেন। ছবি তৈরির সময় অবশ্যই লিখে দিন যাতে আপনার মুখের আসল আদল ও চেনা ফেসিয়াল ফিচার্স একেবারেই না বদলায়। একই সঙ্গে পোশাক, চুলের ছাঁট, ঘরের আসবাব কিংবা পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড কেমন চাইছেন, তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করলেই নিমেষে সামনে আসবে আপনার এক অন্য রূপ।