হস্তমৈথুনের সময় ঠিক কী কারণে শরীর থেকে বীর্য বের হয়? জানুন এর আসল বৈজ্ঞানিক রহস্য!

যৌন উদ্দীপনা বা হস্তমৈথুনের সময় শরীর থেকে বীর্য নির্গত হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং একটি স্বয়ংক্রিয় জৈবিক প্রক্রিয়া। মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্র ও প্রজননতন্ত্রের নিখুঁত সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই পুরো বিষয়টি পরিচালিত হয়। কিন্তু ঠিক কী কারণে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং এর পেছনে বিজ্ঞান কী বলছে, তা অনেকের কাছেই অজানা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হস্তমৈথুন ও বীর্যপাত মূলত যৌন উদ্দীপনার শেষ সীমায় পৌঁছনোর পর শরীরের একটি স্বাভাবিক পেশিগত প্রতিক্রিয়া। পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি নির্দিষ্ট ধাপে সম্পন্ন হয়:
উদ্দীপনা ও মস্তিষ্কের ভূমিকা: হস্তমৈথুনের সময় লিঙ্গের সংবেদনশীল স্নায়ুপ্রান্ত স্পাইনাল কর্ডের বা মেরুদণ্ডের মাধ্যমে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। মস্তিষ্ক সেই অনুযায়ী সাড়া দিয়ে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে পুরুষাঙ্গ উত্তেজিত হয়।
বীর্য উৎপাদন ও জমা হওয়া: উদ্দীপনা যত বাড়তে থাকে, তত অণ্ডকোষে তৈরি হওয়া শুক্রাণু নালীর মাধ্যমে ওপরে উঠে আসে। একই সময়ে প্রোস্টেট গ্রন্থি ও সেমিনাল ভেসিকল থেকে বিশেষ তরল নিঃসৃত হয়ে সেই শুক্রাণুর সঙ্গে মিশে সম্পূর্ণ বীর্য তৈরি করে।
অর্গাজম ও অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়া: উদ্দীপনা যখন তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন শরীর চরম যৌন অনুভূতি বা অর্গাজম অনুভব করে। এই পর্যায়ে মস্তিষ্ক ও পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে স্নায়বিক সংকেত ও হরমোন নিঃসৃত হয়ে শরীরে একটি বিশেষ রিফ্লেক্স অ্যাকশন তৈরি করে।
পেশির সংকোচন ও বীর্যপাত: এই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপে প্রোস্টেট, সেমিনাল ভেসিকল এবং মূত্রনালীর চারপাশের পেশিগুলো অত্যন্ত দ্রুত সংকুচিত হতে শুরু করে। পেশিগত এই সংকোচনের তীব্র চাপেই ভেতরে জমা হওয়া বীর্য মূত্রনালী দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে।