মাঝআকাশে হুলুস্থুল! রাহুল গান্ধীর বিমানে হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনি, রানওয়ে ছোঁয়ার আগেই ফের ওপরে উঠল বিমান!

দিল্লি থেকে লখনউগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে জরুরি ল্যান্ডিংয়ের পরিস্থিতি তৈরি হওয়াকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিমানটিতে সওয়ার ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। লখনউয়ের চৌধুরী চরণ সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের একেবারেই শেষ মুহূর্তে রানওয়ে স্পর্শ করার ঠিক আগে বিমানটিতে তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। চালক তৎক্ষণাৎ ল্যান্ডিং বাতিল করে বিমানটিকে ফের উঁচুতে নিয়ে যান (Go-Around)। পরবর্তীতে পাইলটের তৎপরতায় দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় নিরাপদে ল্যান্ড করে বিমানটি।
কী ঘটেছিল রানওয়ে ছোঁয়ার মুহূর্তে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এয়ার ইন্ডিয়ার ‘AI-1717’ বিমানটি দিল্লি থেকে দুপুর ২টো ২০ মিনিটে রওনা দিয়েছিল এবং বিকেল ৩টে ৩০ মিনিটে লখনউ পৌঁছানোর কথা ছিল। বিমানবন্দরে নামার সময় রানওয়ে ১-এর ঠিক কাছাকাছি পৌঁছাতেই হঠাৎ বাতাসের প্রবাহ বা পরিস্থিতির কারণে বিমানটি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। চরম ঝুঁকি না নিয়ে অভিজ্ঞ পাইলট অবিলম্বে ল্যান্ডিং প্রক্রিয়া বাতিল করেন এবং এক ধাক্কায় বিমানটিকে আবার শূন্যে তুলে নেন।
আচমকা বিমানের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ক্ষণিকের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কয়েক মিনিট পর পুনরায় ঘুরে এসে পাইলট দ্বিতীয় চেষ্টায় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিমানটি নিরাপদে নামাতে সক্ষম হন। বর্তমানে সমস্ত যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা সম্পূর্ণ সুস্থ ও সুরক্ষিত রয়েছেন।
পাইলটদের এই বিশেষ পদ্ধতি ‘গো-অ্যারাউন্ড’ (Go-Around) আসলে কী?
বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত পরিচিত একটি সুরক্ষাবিধি। রানওয়েতে নামার আগে যদি দেখা যায় যে আবহাওয়া খারাপ, হাওয়ার গতিবেগ বেশি বা বিমানটির সঠিক ভারসাম্য মিলছে না, তবে ঝুঁকি না নিয়ে বিমানটিকে পুনরায় আকাশে তুলে নেওয়া হয়। একেই পরিভাষায় ‘গো-অ্যারাউন্ড’ বলা হয়। এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই করা হয়।
রায়বরেলীতে বিশেষ কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধী:
দুই দিনের উত্তর প্রদেশ সফরে নিজের সংসদীয় কেন্দ্র রায়বরেলীতে যাচ্ছেন রাহুল গান্ধী। লখনউ পৌঁছানোর পর তিনি জেলা উন্নয়ন সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ কমিটির (DISHA) একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধান হিসেবে যোগ দেবেন। প্রশাসনিক কর্তারা ইতিমধ্যেই সভার প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছেন। লখনউ বিমানবন্দরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা।