গঙ্গার ভয়াল গ্রাসে ভূতনির ৭৮টি গ্রাম! ঘরবাড়ি হারিয়ে বাঁধের ওপর লক্ষাধিক মানুষের নিদারুণ আর্তনাদ

গঙ্গার বাঁধভাঙা জলের তীব্র তোড়ে চোখের পলকে প্লাবিত মালদার ভূতনির চরাঞ্চলের প্রায় ৭৮টি গ্রাম। আচমকা এই দুর্যোগে জলবন্দি হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক অধিবাসী। বহু পরিবার নিজের পাকা বাড়িঘর ছেড়ে ভাঙা বাঁধের ওপর অস্থায়ী ত্রিপল খাটিয়ে ঠাঁই নিয়েছেন। অনেকে আবার জীবন ও সহায়-সম্বল বাঁচাতে ঘরবাড়ি খুলে ট্রাক্টরে চাপিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছেন। তবে দুর্যোগের এই আবহে দুর্গতদের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানীয় জল বা খাবারের পর্যাপ্ত ত্রাণ এখনও পৌঁছায়নি, এমনকি উদ্ধারকাজের জন্য মেলেনি প্রয়োজনীয় নৌকাও।

গর্ভবতী নারীদের রক্ষায় আশাকর্মীর অসম লড়াই:

ভুবনটোলা গ্রামের চরম বিপদের মাঝেও জল ভেঙে নিজের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন স্থানীয় আশাকর্মী কাকলি মণ্ডল। তিনি জানান, “গ্রামের একের পর এক ঘরে জল। চরম ঝুঁকি নিয়ে হাঁটুজল ভেঙে গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ১২ জন অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত করা জরুরি, কিন্তু প্রশাসনিক নৌকা না থাকায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।” জলমগ্ন এলাকায় সাপের চরম উপদ্রব বাড়ায় আতঙ্ক আরও চেপে বসেছে।

ভেসে গেছে বিঘার পর বিঘা ফসল ও আস্ত বসতবাড়ি:

কেশরপুর কলোনির চন্দন মাহাতোর মতো অনেকেরই পাকা বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অন্যদিকে, ভুবনটোলার পাটচাষী গোপাল মণ্ডলের আক্ষেপ, বিঘা বিঘা জমির খেতের কেটে রাখা পাট জলের তোড়ে ভেসে গেছে। কোনো কিছুই উদ্ধার করার সুযোগ পাননি চাষীরা। এর পাশাপাশি, নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে ৭২ বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক শিবমন্দির সহ একাধিক বিদ্যালয়ের ভবন।

রাজনৈতিক তরজা ও সেচ দপ্তরের চরম দুশ্চিন্তা:

উদ্বেগ প্রকাশ করে ভূতনিতে দুর্গতদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হলেও স্থানীয় বিরোধীদের দাবি, সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে বড় ঘাটতি থেকে গেছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফ্লাড শেল্টার খুলে রান্না করা খাবার এবং বাঁধের ওপর ত্রিপল ও আলোর বন্দোবস্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে, সেচ দপ্তর সূত্রে খবর—শুধু গঙ্গা নয়, বিপৎসীমার কাছাকাছি বইছে ফুলহর নদীও। উত্তর ভারত থেকে নেমে আসা অতিরিক্ত জল ও ফুলহরের জলস্তর বাড়তে থাকায় ভূতনির বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে বলে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *