নিরামিষ দিনে সয়াবিন খাচ্ছেন? আমিষ নাকি নিরামিষ— কী বলছে খাদ্য নিয়ামক সংস্থা এফএসএসএআই?

নিরামিষ রান্নায় মাংসের স্বাদ ও প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে সয়াবিনের জুড়ি মেলা ভার। সয়া নাগেট, সয়া বড়ি কিংবা সয়া গ্র্যানিউল— নানা নামে বাঙালির পাতে স্থান পায় এই খাবার। তবে সয়াবিন কি পুরোপুরি নিরামিষ, নাকি এর আড়ালে রয়েছে অন্য কোনো উপাদান? এই প্রশ্ন নিয়ে অনেকের মনেই দীর্ঘদিনের সংশয় রয়েছে। সম্প্রতি এই বিষয়ে আসল তথ্য সামনে এনেছে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক নিয়ামক সংস্থা এফএসএসএআই (FSSAI)।
সয়াবিন কি আমিষ না নিরামিষ? এফএসএসএআই-এর স্পষ্ট বার্তা অনুযায়ী, সয়া চাঙ্কস বা সয়াবিন সম্পূর্ণ একটি নিরামিষ খাবার। এর প্রধান এবং একমাত্র উৎস হলো উদ্ভিদজাত সয়াবিন। বিশেষ ‘এক্সট্রুশন’ (Extrusion) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘ডিফ্যাটেড সয়া ফ্লাওয়ার’ বা প্রোটিনযুক্ত সয়া অংশ থেকে এটি তৈরি করা হয়।
কীভাবে তৈরি হয় এই সয়া চাঙ্কস? সহজ ভাষায়, সয়াবিন থেকে তেল সম্পূর্ণ বের করে নেওয়ার পর যে প্রোটিনসমৃদ্ধ অংশটি পড়ে থাকে, সেটিকে প্রক্রিয়াজাত করে বিশেষ আকার দেওয়া হয়। এরপর তা শুকিয়ে বাজারে বিক্রি করা হয়। রান্নার আগে গরম জলে ভিজিয়ে নিলে এটি নরম ও তুলতুলে হয়ে ওঠে, যা খুব সহজেই মাংসের মতো টেক্সচার বা স্বাদ এনে দেয়।
প্রোটিনের শক্তিঘর: স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের জন্য সয়াবিন একটি আদর্শ খাবার। শুকনো সয়া চাঙ্কসে প্রায় ৫০ শতাংশ প্রোটিন থাকে এবং ফ্যাটের পরিমাণ থাকে মাত্র ১ শতাংশের কাছাকাছি। ফলে যাঁরা নিরামিষাশী অথবা মাছ-মাংস খান না, তাঁদের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে এটি অত্যন্ত কার্যকরী।
‘ভেজ মিট’ মানেই কিন্তু মাংস নয়: অনেকে সয়াবিনকে চলতি ভাষায় ‘ভেজ মিট’ বা ‘নিরামিষ মাংস’ বলে থাকেন। তবে এতে কোনো ধরনের প্রাণীজ উপাদান থাকে না। এটি কেবল প্রক্রিয়াকরণের গুণে চিবোনোর সময় মাংসের মতো অনুভূতি দেয়।
সতর্কতা: যদিও সয়াবিন অত্যন্ত পুষ্টিকর ও শতভাগ নিরামিষ, তবে যাঁদের সয়া জাতীয় খাদ্যে অ্যালার্জি রয়েছে, তাঁদের এটি না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।