নার্সিংহোমে বেডের তলায় লুকিয়ে নার্স! চিকিৎসায় কিশোরীর মৃত্যুর পরেই আরামবাগে যা কাণ্ড ঘটল, দেখলে চোখ কপালে উঠবে

চিকিৎসার চরম গাফিলতিতে ১৭ বছরের এক নাবালিকার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল আরামবাগে। সোমবার রাতে আরামবাগ রেল স্টেশন সংলগ্ন একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পরিবারের লোকজনকে কোনও কিছু না জানিয়েই মৃতদেহ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই মঙ্গলবার সকালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের আত্মীয়রা। নার্সিংহোমে ভাঙচুর ও বিক্ষোভের পাশাপাশি পুলিশ এসে চারতলার একটি বন্ধ ঘর থেকে বেডের তলায় লুকিয়ে থাকা অবস্থায় নার্স ও মহিলা কর্মীদের উদ্ধার করে। মৃত কিশোরীর নাম শাকিলা খাতুন, তাঁর বাড়ি আরামবাগের মায়াপুরের শুশনি পাড়ায়।
পরিবারের অভিযোগ ও ঘটনার সূত্রপাত
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুর ১২টা নাগাদ মাথাব্যথার মতো অসুস্থতার কারণে শাকিলাকে ওই নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছিল। রাতেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে তাঁর কথা হয়, এমনকি তিনি খাবারও খেয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎই গভীর রাতে নার্সিংহোম থেকে ফোন করে জানানো হয় যে কিশোরীর শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর খবর আসে।
পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগ, রোগীর মৃত্যুর পর তাদের সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা বা সদুত্তর না দিয়েই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি অ্যাম্বুলেন্সে করে মৃতদেহ সোজা বাড়িতে পৌঁছে দেয়। চিকিৎসায় চরম অবহেলার কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতেই কর্তৃপক্ষ গা ঢাকা দিয়েছিল বলে দাবি স্বজনদের।
বেডের তলা থেকে উদ্ধার নার্স ও কর্মীরা
মঙ্গলবার সকালে মৃতার পরিবারের সদস্য ও এলাকার শত শত মানুষ নার্সিংহোমের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। উত্তেজিত জনতা ভেতরে ঢুকে দেখেন, ম্যানেজার থেকে শুরু করে কোনও চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী কাউকেই সেখানে পাওয়া যাচ্ছে না। চারতলার একটি ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে সকলের সন্দেহ হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে দরজা খোলার অনুরোধ করা হলেও ভেতর থেকে কেউ সাড়া দেয়নি।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় আরামবাগ থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় সকলের। দেখা যায়, নার্সিংহোমের মহিলা কর্মী ও নার্সরা নিজেদের বাঁচাতে চারতলার ওই ঘরের বেডের তলায় ভয়ে লুকিয়ে রয়েছেন। পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাঁদের বাইরে বের করে আনে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ, যার জেরে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।