পাহাড়ের দুর্নীতিতে কাউকে ছাড়া হবে না! জিটিএ-র লুটপাট রুখতে সোজা কমিশন গড়ার হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রীর!

জিটিএ-র দুর্নীতি নিয়ে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক জরুরি বৈঠকে তৃণমূল আমলের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিশন গঠনের কথা ঘোষণা করেন তিনি। পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগ এবং পানীয় জল প্রকল্পে দুর্নীতির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই ঘটনায় কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে যেমন এফআইআর ও গ্রেফতারি হবে, তেমনই লুঠ করা সমস্ত টাকাও উদ্ধার করা হবে।

এদিনের বৈঠকে পাহাড়ের উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জিটিএ চেয়ারম্যান সহ অনেকেই পদত্যাগ করেছেন এবং সেখানে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ করা হয়েছে। স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ের উন্নয়নের কাজ থামিয়ে রাখা যাবে না বলে স্পষ্ট জানান তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১১টি বোর্ডে শিক্ষক নিয়োগ ও পানীয় জলের মতো ক্ষেত্রগুলিতে যে আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, তার তদন্তে গঠিত কমিশন ইতিমধ্যেই পাহাড় পরিদর্শন করেছে।

এদিকে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এদিন কালিম্পঙের নির্ধারিত সফর বাতিল করতে বাধ্য হন মুখ্যমন্ত্রী। হেলিকপ্টার ল্যান্ড করতে না পারায় তিনি ভার্চুয়ালি পাহাড়বাসীকে ক্ষমা চেয়ে জানান, কার্শিয়ংয়ে তিনি সড়ক পথেই গিয়েছেন। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর কোচবিহার ও ডুয়ার্স সফরের পাশাপাশি তিনি আগামী ৬ অক্টোবর বা তার আগের দিনেই দার্জিলিং এবং কালিম্পং সফর করবেন বলে জানিয়েছেন। সাংসদ রাজু বিস্তা পাহাড়ের উন্নয়ন ও জিটিএ নিয়ে যে সমস্ত প্রস্তাব দিয়েছেন, সেগুলিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে পাহাড়বাসীকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার গঠনের মাত্র চার মাস হয়েছে এবং এই অল্প সময়ের মধ্যেই পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে। পাহাড়ে মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সরকার বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে কালিম্পং জেলায় প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অধীনে যাঁদের নিজস্ব জমি রয়েছে কিন্তু পাকা বাড়ি নেই, এমন ৮,৪৩৫ জন উপভোক্তাকে শীঘ্রই বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *