টিভি-ফ্রিজ থাকার পরেও অস্বীকার? জনগণনায় ভুল তথ্য দিলেই বড় বিপদ, হতে পারে কড়া সাজা!

ভারতের জনগণনার কাজ জোরকদমে এগিয়ে চলেছে। এবারের এই দেশীয় সমীক্ষায় প্রতিটি পরিবারকে উত্তর দিতে হচ্ছে মোট ৪০টি নির্দিষ্ট প্রশ্নের। তবে সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠছে যে, বহু মানুষই সমীক্ষকদের কাছে সঠিক তথ্য দিচ্ছেন না। বাড়িতে টিভি, ফ্রিজ, বাইক বা স্কুটার কিংবা স্মার্টফোন থাকার পরেও অনেকে তা অস্বীকার করছেন বা তথ্য গোপন করছেন। আর এই ভুয়ো তথ্যের জেরে আইনি বিপদের মেঘ ঘনাতে শুরু করেছে।
কেন সঠিক তথ্য দেওয়া আইনত বাধ্যতামূলক?
দেশের অভ্যন্তরীণ আর্থ-সামাজিক অবস্থা বুঝে সেই মতো সরকারি নীতি ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প রূপায়ণ করা হয় জনগণনার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে। তাই সমীক্ষায় সঠিক তথ্য প্রদান করা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের আইনি দায়িত্ব।
১৯৪৮ সালের আদমশুমারি আইন অনুযায়ী, জনগণনার কাজে নিযুক্ত কর্মীদের সঠিক তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক। এই আইনের ৮ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিকল্পনা তৈরির কাজে এই তথ্যের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য পরিবেশন করলে তা গুরুতর অপরাধের আওতায় পড়ে।
ভুল তথ্য দিলে কি সত্যিই জেল হতে পারে?
এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হলো—হ্যাঁ, হতে পারে। জনগণনা আইনের ১১ নম্বর ধারায় নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান পরিষ্কার করা হয়েছে। কেউ যদি জেনেশুনে ভুল তথ্য দেন, কোনো তথ্য চেপে যান বা সমীক্ষার কাজে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
আইন অনুযায়ী, এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড কিংবা ১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এমনকি আদালত চাইলে এই দুই সাজাই একসঙ্গে দিতে পারে। তাই সমীক্ষার সময় কোনো কিছু লুকোচুরি না করে সত্য তথ্য তুলে ধরাই বুদ্ধিমানের কাজ।
উত্তর জানা না থাকলে কী করবেন?
কোনো নির্দিষ্ট প্রশ্নের সঠিক উত্তর যদি আপনার জানা না থাকে, তবে তা বানিয়ে বলার কোনো প্রয়োজন নেই। সমীক্ষকদের সটান ‘জানি না’ বলে দেওয়াই শ্রেয়। ভুয়ো তথ্য দিয়ে বিপদে পড়ার চেয়ে সত্যিটা স্বীকার করে নেওয়া অনেক বেশি নিরাপদ।