“মাকে অস্বীকার করার উপায় নেই!” দীপঙ্করের সঙ্গে সম্পর্ক থেকে মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা অহনা দত্ত

‘অনুরাগের ছোঁয়া’ ধারাবাহিকে খলনায়িকা মিশকা চরিত্রের সুবাদেই ছোটপর্দার দর্শকদের মনে পাকা জায়গা করে নিয়েছেন অভিনেত্রী অহনা দত্ত। নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেও যে এমন তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা পাওয়া যায়, অহনার কেরিয়ার তার অন্যতম বড় উদাহরণ। তবে অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং নানা বিতর্ক সবসময়ই খবরের শিরোনামে থাকে। সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে নিজের প্রেম, বিয়ে, মা হওয়ার অভিজ্ঞতা এবং মায়ের সঙ্গে দূরত্বের মতো সংবেদনশীল প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী।
মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ও অতীতের স্মৃতি
অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। বয়সে বড় এবং ডিভোর্সি দীপঙ্কর রায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ও পরবর্তীতে ঘর বাঁধার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি তাঁর সিঙ্গল মাদার চাঁদনি দত্ত। মায়ের অমতেই সেই সম্পর্ক বেছে নেওয়ার কারণে তাঁদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। তবে এতকিছুর পরেও মায়ের প্রতি নিজের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে অহনা জানান, মাকে অস্বীকার করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
এক পডকাস্টে তিনি বলেন, “আমি কোনোদিনও কাউকে অস্বীকার করিনি, মায়ের জায়গা কেউ নিতে পারে না। তবে একটা নির্দিষ্ট সময়কে আমি অস্বীকার করব।” ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে কাটানো সুন্দর দিনগুলির কথা স্মরণ করে অহনা জানান, তিনি মায়ের সবথেকে কাছের ছিলেন। একসঙ্গে ঘোরাঘুরি, খাওয়া দাওয়া এবং মায়ের কাছেই তাঁর প্রথম নাচ শেখার মতো মিষ্টি স্মৃতি আজও তাঁর মনে টাটকা। তবে ভালোবাসার মানুষের থেকেই পাওয়া আঘাতের কথা স্মরণ করতে চান না তিনি।
মাতৃত্ব এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে সাফ কথা
নিজেই এখন এক সন্তানের মা, ২১ বছর বয়সে এই দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার পর কি কখনও মনে হয়েছে তাঁর মা সঠিক ছিলেন? উপস্থাপকের এই প্রশ্নের উত্তরে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে অহনা জানান, তিনি নিজের জায়গায় সঠিক ছিলেন, এটুকুই তাঁর জানা। মা হওয়ার পর জীবনের দায়িত্ববোধ বহুলাংশে বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু তা তাঁর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা অভিনয় কেরিয়ারের ইচ্ছাকে থামিয়ে দিতে পারেনি। নিজের পছন্দমতো জীবন বেছে নেওয়া, সংসার সামলানো এবং মেয়েকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া—সবকিছুই অত্যন্ত সুন্দরভাবে ভারসাম্য বজায় রেখে ম্যানেজ করছেন তিনি।
অতীতের তিতকুটে অভিজ্ঞতা বা যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায়গুলিকে পেছনে ফেলে বর্তমানে নিজের ছোট্ট সংসার ও জীবন নিয়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট অহনা। নিজের সন্তানকে বড় করতে গিয়ে সম্পর্ক ও ভালোবাসার সংজ্ঞা তিনি নতুনভাবে উপলব্ধি করছেন। মা ও মেয়ের এই সুপ্ত দূরত্বের বরফ আগামী দিনে গলবে কি না, সেই উত্তর এখন সময়ের হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী।