“জেল থেকে ফিরে ওই সুগার ড্যাডিকেও খুন করব!” স্ত্রীর কাটা মাথা ফ্রিজে রেখেও অনুশোচনা নেই অসমের যুবকের!

অসমের গুয়াহাটিতে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করে তাঁর কাটা মাথা ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় গোটা দেশে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ২৫ বছর বয়সি স্ত্রী রিয়া তালুকদারকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগে ধৃত রামানুজ গোস্বামীকে মঙ্গলবার আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে তোলার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিযুক্ত কোনো রাখঢাক না রেখেই স্বীকার করে যে সে নিজেই স্ত্রীকে খুন করেছে। শুধু তাই নয়, জেল থেকে ছাড়া পেলে তথাকথিত সেই ‘সুগার ড্যাডি’কেও খুন করবে বলে প্রকাশ্যেই হুঙ্কার ছেড়েছে সে। সাংবাদিকদের সামনে অভিযুক্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, এই নৃশংস কাজের জন্য তার বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। বর্তমানে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে রয়েছে রামানুজ।

ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার ক্ষতবিক্ষত ও খণ্ডবিখণ্ড দেহ

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গুয়াহাটির একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে এই দম্পতি বসবাস করতেন। গত শুক্রবারের পর থেকে তাঁদের কাউকেই বাইরে দেখতে পাননি প্রতিবেশীরা এবং দু’জনের মোবাইল ফোনই বন্ধ ছিল। গত রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেশীরা ওই ফ্ল্যাট থেকে তীব্র পচা গন্ধ পেয়ে স্থানীয় থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে তরুণীর ক্ষতবিক্ষত ও পচাগলা দেহ উদ্ধার করে।

তদন্তে নেমে পুলিশ দেখতে পায়, নিহত তরুণীর আঙুলগুলো অর্ধেক কাটা এবং ধড় থেকে মাথা সম্পূর্ণ আলাদা করা হয়েছে। এরপর পুরো ঘর তল্লাশি করতে গিয়ে ফ্রিজ খুলতেই তদন্তকারীদের চোখ কপালে ওঠে। একটি প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল তরুণীর কাটা মুণ্ডু। পুলিশ খণ্ডবিখণ্ড দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

পলাতক জীবন ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ

ঘটনার পর প্রায় দু’দিন পলাতক থাকার পর গত রবিবার গভীর রাতে নিজেই পুলিশের কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন রামানুজ গোস্বামী। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত নেপথ্য কারণ এবং ঘটনার কার্যকারণ পুনর্নির্মাণ করতে ধৃতকে দফায় দফায় জেরা করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। প্রাথমিক অনুমান, পারিবারিক বচসার জেরেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিয়াকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। তবে রামানুজের দাবি করা সেই ‘সুগার ড্যাডি’ আসলে কে এবং এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো ত্রিকোণ প্রেমের রহস্য লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *