৭ দিনের মধ্যে বন্ধ হয়ে যেতে পারে UPI QR কোড, পেমেন্ট করবেন কীভাবে?

চা বিক্রেতা থেকে শুরু করে বড় শপিং মল—দৈনন্দিন জীবনের খুচরো লেনদেনে কিউআর কোড স্ক্যান করে ইউপিআই পেমেন্ট এখন আমাদের অত্যন্ত পরিচিত এক ছবি। নগদ টাকা সঙ্গে নিয়ে ঘোরার ঝঞ্ঝাট থেকে মুক্তি দিয়ে এই ডিজিটাল মাধ্যম সাধারণ মানুষের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসাকেও গতি দিয়েছে। তবে এই স্বস্তির ছবিটা এবার বদলাতে চলেছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার নতুন নিয়ম কার্যকর হতে চলায় খুব শীঘ্রই দেশের লক্ষ লক্ষ ছোট ব্যবসায়ী কিউআর কোড পরিষেবা নিয়ে বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে পারেন।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট সময় অন্তর তাঁদের কেওয়াইসি (KYC) তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে আপডেট করতে হয়। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ব্যবসায়ীদের হাতে সময় রয়েছে আর মাত্র ৭ দিন, অর্থাৎ আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটর ও ফিনটেক সংস্থাগুলির দেওয়া তথ্য বলছে, এখনও পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর রি-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। নির্ধারিত এই অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক ছোট ব্যবসায়ী ভেরিফিকেশন করাতে ব্যর্থ হলে তাঁদের কিউআর কোড-ভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। এই আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই ফিনটেক সংস্থাগুলি আরবিআই-এর কাছে ডেডলাইন বা সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে।
এই জটিলতার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ ক্রেতার দৈনন্দিন কেনাকাটায়। কোনো দোকানদারের রি-কেওয়াইসি সময়মতো সম্পূর্ণ না হলে এবং তাঁর কিউআর কোডে সমস্যা দেখা দিলে আপনি চাইলেও ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন না। উদাহরণস্বরূপ, পাড়ার মুদি দোকান বা সবজি বাজারে গিয়ে পেমেন্ট করার সময় কিউআর কোড কাজ না করলে বিপাকে পড়তে হবে। সে ক্ষেত্রে গ্রাহকদের হয় নগদ ক্যাশ টাকা মেটাতে হবে, নয়তো সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ঝক্কি পোহাতে হবে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ী এবং হকাররা যে এলাকায় ব্যবসা করেন, সেখানে এই সমস্যা মারাত্মক আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর, এই স্বল্প সময়ের মধ্যে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ক্ষুদ্র বিক্রেতা ও হকার তাঁদের কিউআর কোড আপডেট করতে পারবেন না। এর জেরে দেশের প্রায় ১০ লক্ষ ছোট ব্যবসা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সময়সীমা বাড়ায় নাকি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের কড়া কেওয়াইসি নীতিই বহাল থাকে, এখন সেটাই দেখার।