কিডনি নষ্ট হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে প্রতিদিন পাতে রাখুন এই ৬টি খাবার! আজই ডায়েটে আনুন বদল

শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফিল্টারগুলির মধ্যে অন্যতম হলো কিডনি। তাই কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে দৈনন্দিন ডায়েটে এমন কিছু খাবার রাখা অত্যন্ত জরুরি, যা এর ওপর থেকে অতিরিক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করে। চিকিৎসকদের মতে, কম পটাশিয়ামযুক্ত ফল, সবজি এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার কিডনিকে দীর্ঘদিন সুস্থ ও সচল রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। নিচে জেনে নিন কিডনি সুরক্ষিত রাখতে কোন কোন খাবারগুলি নিয়মিত খাওয়া উচিত:
বাঁধাকপি: এই সবজিতে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশ কম থাকায় যাঁরা কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চান, তাঁদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে এবং ভিটামিন বি৬ রয়েছে। এছাড়া বাঁধাকপিতে থাকা ফাইটোকেমিক্যালস ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষের ক্ষয়ক্ষতি রোধ করতে সাহায্য করে।
রসুন: খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি রসুন উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থেকে সুরক্ষা দেয়। রসুনে উপস্থিত অ্যালিসিন (allicin) নামক বিশেষ যৌগ শরীরের প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে দারুণ কার্যকরী।
পেঁয়াজ: কম পটাশিয়ামযুক্ত পেঁয়াজে কোয়ারসেটিন নামক একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি ক্যানসারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। এছাড়া পেঁয়াজ ক্রোমিয়ামের একটি চমৎকার উৎস, যা কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ও প্রোটিনের বিপাক ক্রিয়ায় সাহায্য করে।
অলিভ অয়েল: যাঁদের ইতিমধ্যে কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের রান্নায় বা ডায়েটে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা খুবই লাভজনক। এটি স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের অন্যতম সেরা উৎস এবং সামগ্রিকভাবে কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
ক্র্যানবেরি: নিয়মিত ক্র্যানবেরি বা এর জুস পান করলে মূত্রনালীর সংক্রমণ বা ইউটিআই (UTI)-এর ঝুঁকি কমে। এটি মূত্রাশয়ের দেওয়ালে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জমতে বাধা দেয়। পাশাপাশি, এটি পাকস্থলীকে রক্ষা করে এবং অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটিয়ে হজমশক্তি উন্নত করে।
ফুলকপি: পুষ্টিগুণে ভরপুর ফুলকপিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ফোলেট এবং ফাইবার থাকে। এছাড়া এতে ইনডোলস ও গ্লুকোসিনোলেটসের মতো যৌগ রয়েছে, যা লিভারকে শরীরের বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে। এই বিষাক্ত উপাদানগুলি কোষের ঝিল্লি ও ডিএনএ-র যাতে ক্ষতি করতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখে এই সবজি।