বিক্রি কমেছে আকাশচুম্বী, বড় ধাক্কায় ভারতে কর্মী ছাঁটাই শুরু করল স্যামসাং!

ব্যয় বৃদ্ধি ও চাহিদায় ভাটার টানে অবশেষে কোপ পড়ল কর্মীদের চাকরিতে। টেলিভিশন এবং হোম অ্যাপ্লায়েন্স ব্যবসায় ধাপে ধাপে কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ‘স্যামসাং ইন্ডিয়া’। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮০ থেকে ১০০ জন শীর্ষ আধিকারিককে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। ছাঁটাইয়ের এই তালিকায় রয়েছে দপ্তরের পরিচালক-স্তরের কর্মী, টিম লিড থেকে শুরু করে শাখা ও এলাকা ব্যবস্থাপকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোও।

কোথায় কোপ পড়ছে বেশি?

স্যামসাং-এর ইলেকট্রনিক্স ব্যবসার বিক্রয় ও বিপণন বিভাগে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাঁটাই হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সরাসরি সংস্থাতে কর্মরত কর্মচারী ছাড়াও ম্যানপাওয়ার এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত অফ-রোল কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে স্যামসাং-এর দেশীয় ইলেকট্রনিক্স বিক্রয় দলে প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ জন কর্মকর্তা কাজ করছেন। চাকরি হারানো এক কর্মী জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ছাঁটাইয়ের চিঠি ধরানো হচ্ছে এবং অনেককে নোটিশ পিরিয়ড শেষ হওয়ার আগেই বিদায় নিতে বলা হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, চাকরিচ্যুতদের নিয়ম অনুযায়ী তিন মাসের বেতন এবং প্রতি বছরের চাকরির জন্য অতিরিক্ত এক মাসের বেতন দিচ্ছে সংস্থাটি।

হঠাৎ কেন এই ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত?

স্যামসাং ইন্ডিয়ার ওপর নানামুখী অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। এক ধাক্কায় মেমোরি চিপের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় রুপির অবমূল্যায়ন, স্মার্টফোনের বিক্রি কমে যাওয়া এবং কাঁচামালের চড়া দাম সংস্থার মুনাফায় বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। ২০২৬ অর্থবর্ষ জুড়েই রুপির অবমূল্যায়নের ফলে সামগ্রিক ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে আবার ভারতের স্মার্টফোন বাজার দুর্বল হয়ে পড়েছে, যেখানে বিক্রি প্রায় ১১ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। অপ্রিয় হলেও সত্যি, এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ভারতীয় বাজারে স্যামসাং দ্বিতীয় স্থান থেকে পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে। বর্তমানে বাজার ধরে রেখে শীর্ষে রয়েছে ভিভো।

আপাতত সুরক্ষিত স্মার্টফোন টিম

বর্তমান ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া থেকে স্যামসাং-এর মূল স্মার্টফোন বিভাগটিকে আপাতত দূরে রাখা হয়েছে। কারণ, ভারতে এই বিভাগটিই সংস্থার সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস। বিশেষ করে আসন্ন দীপাবলি উৎসবের মরসুমে বিক্রি বাড়বে বলে আশাবাদী কতৃপক্ষ, যা সংস্থার ব্যবসাকে কিছুটা অক্সিজেন জোগাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও কোম্পানির সর্বশেষ আর্থিক রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ অর্থবর্ষে তাদের মোট রাজস্ব এবং নিট মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছিল, তবুও বর্তমান বাজারের মন্দা ও ক্রমবর্ধমান খরচের চাপে এই কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে স্যামসাং।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *