বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বড় মঞ্চে বড় স্বীকারোক্তি! মতপার্থক্য ভুলে কীভাবে শান্তি ফেরাবে ব্রিকস?

আন্তর্জাতিক সংঘাতের আবহে ব্রিকস (BRICS) গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির পক্ষে এক সুরে কথা বলা বেশ কঠিন বলে মন্তব্য করলেন ভারতে নিযুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকার হাই কমিশনার অনিল শুকলাল। তবে একই সঙ্গে তিনি এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নানা বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও দেশগুলির মধ্যে আলোচনার দরজা খোলা রাখার ক্ষেত্রে ব্রিকসই সবচেয়ে বড় ও সেরা মঞ্চ। চলতি সপ্তাহেই ভারতের সভাপতিত্বে নয়াদিল্লিতে বসতে চলেছে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলন, যার প্রাক্কালে এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ভিন্নমত সত্ত্বেও ব্রিকসের আসল শক্তি কোথায়?

এএনআই-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে অনিল শুকলাল জানান, ব্রিকস কোনো একজাতীয় দেশগুলির জোট নয়। পশ্চিম এশিয়া বা রাশিয়া-ইউক্রেনের মতো জটিল সংঘাতগুলিতে এই গোষ্ঠীর প্রতিটি দেশের নিজস্ব আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ স্বার্থ এবং ভিন্ন অবস্থান রয়েছে। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) বা জি৭ (G7)-এর মধ্যেও সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে তাঁর মতে, ব্রিকসের মূল শক্তি হলো ভিন্ন মেরুর দেশগুলিকে একই ছাদের নিচে বসে আলোচনা করার সুযোগ করে দেওয়া, যা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

ভারতে বসছে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলন

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানী নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত হতে চলেছে ২০২৬ সালের অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলন। ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মেগা সম্মেলনে যোগ দেবেন সদস্য ও সহযোগী দেশগুলির শীর্ষ নেতারা। এবারের সম্মেলনের মূল থিম হলো “স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ”, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “সবার আগে মানবতা” দর্শনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যেই দিল্লির এই শীর্ষ বৈঠক বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কোনো দিশা দেখাতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *