আগ্নেয়গিরির ভয়ংকর অগ্ন্যুৎপাতে ৫০ হাজার ফুট উঁচুতে ছাইয়ের মেঘ! বন্ধ একাধিক বিমানবন্দর, চরম বিপাকে দেড় লক্ষাধিক যাত্রী!

ইন্দোনেশিয়ার কুখ্যাত আগ্নেয়গিরি আনাক ক্রাকাতাউয়ে (Anak Krakatau) পরপর ভয়ংকর অগ্ন্যুৎপাতের জেরে চরম বিপর্যস্ত জনজীবন। জাভা ও সুমাত্রার মাঝখানে সুন্দা প্রণালীতে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরি থেকে গত শুক্রবারের পর থেকে বারবার লাভা ও ছাই উদগিরণ শুরু হয়েছে। রবিবার ভোররাত এবং রাতে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণে আগ্নেয়গিরির ছাই আকাশ ছুঁয়ে প্রায় ৫০,০০০ ফুট উঁচুতে পৌঁছে যায়। এর ফলে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার দুটি প্রধান বিমানবন্দর-সহ গোটা দেশের মোট আটটি বিমানবন্দর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে সোমবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন এবং বাতিল করতে হয়েছে ১,৫৫০টিরও বেশি বিমান।
ছাইয়ের মেঘে ঢেকেছে আকাশ, ব্যাহত জনজীবন
স্যাটেলাইটের তথ্যানুযায়ী, অগ্ন্যুৎপাতের ফলে তৈরি হওয়া দুটি বিশাল ছাইয়ের মেঘ জাকার্তা, বানতেন, লাম্পুং, বেংকুলু প্রদেশ এবং সুমাত্রার পশ্চিমে ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। জাকার্তার Soekarno-Hatta এবং Halim Perdanakusuma বিমানবন্দরগুলির পাশাপাশি লাম্পুংয়ের Radin Inten II Airport-এর আকাশসীমাও সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, জাকার্তা ও লাম্পুংয়ের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার স্কুলগুলিতে শিশুদের ছাইয়ের বিষাক্ত প্রভাব থেকে বাঁচাতে অনলাইন ক্লাস চালুর নির্দেশ দিয়েছে সরকারি সংবাদ সংস্থা Antara। দুর্যোগ মোকাবিলা দফতরের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে ঘরের বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক পরার কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
কী জানাচ্ছে প্রশাসন?
ইন্দোনেশিয়ার জিওলজিক্যাল এজেন্সি জানিয়েছে, চলতি বছরের জুলাই মাস থেকেই এই আগ্নেয়গিরিটির ভূগর্ভস্থ কার্যকলাপ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। রবিবারের বিস্ফোরণটি সাম্প্রতিককালের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। আগ্নেয়গিরিটির জ্বালামুখ থেকে কমপক্ষে ৩ কিলোমিটার দূরে সাধারণ মানুষকে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পরিবেশগত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির কারণে বিমান পরিষেবা কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না ইন্দোনেশিয়ার পরিবহণমন্ত্রী Dudy Purwagandhi। অন্যদিকে, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সসহ আন্তর্জাতিক একাধিক বিমান সংস্থা তাদের নির্ধারিত বহু ফ্লাইট বাতিল করেছে এবং যাত্রীদের অনলাইন বা ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট রি-বুকিং বা রিফান্ডের আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে।