প্রতি সেকেন্ডে কীভাবে বদলায় দেশের জনসংখ্যা? AIIMS-এর এই জাদুকরী ঘড়ির আসল রহস্য ফাঁস!

দিল্লির এইমস (AIIMS) হাসপাতালের দেওয়ালে টাঙানো একটি ডিজিটাল ঘড়ি বা পপুলেশন ক্লক বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ঘড়ির স্ক্রিনে প্রতি সেকেন্ডে চোখের পলকে বদলে যাচ্ছে ভারতের জনসংখ্যার পরিসংখ্যান। এই দৃশ্য দেখে সাধারণ মানুষের মনে অবধারিতভাবেই প্রশ্ন জাগে— তবে কি দেশের কোনো কোণে একটি শিশু জন্ম নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার সিগন্যাল সোজা পৌঁছে যাচ্ছে এইমসের এই স্ক্রিনে? নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ অন্য কোনো গাণিতিক রহস্য?

কীভাবে কাজ করে এই পপুলেশন ক্লক?

আসলে AIIMS-এর এই ঘড়িটি দেশের প্রতিটি জন্ম বা মৃত্যুকে রিয়েল-টাইম বা লাইভ ট্র্যাক করে না। এটি একটি আনুমানিক (Estimated) জনসংখ্যা প্রদর্শক মাত্র। বিগত বছরগুলির জন্মহার, মৃত্যুর হার, এবং সামগ্রিক জনমিতির (Demographics) ওপর ভিত্তি করে তৈরি বিভিন্ন প্রজেকশন বা পরিসংখ্যানই এই ঘড়ির মূল ভিত্তি। ভারতে জন্ম ও মৃত্যুর সরকারি হিসাব রাখার জন্য ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম’ (CRS) এবং ‘স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম’ (SRS)-এর মতো নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা রয়েছে।

তাহলে প্রতি সেকেন্ডে কেন সংখ্যা বদলায়?

এই ঘড়ির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর সেকেন্ডের কাঁটার গতি। ধরে নেওয়া যাক, কোনো নির্দিষ্ট বছরে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক লক্ষ্য বা অনুপাত রয়েছে। কম্পিউটার বা সফটওয়্যার সেই বার্ষিক বৃদ্ধিকে মাস, দিন, ঘণ্টা, মিনিট এবং সেকেন্ডে নিখুঁতভাবে ভাগ করে দেয়।

যার ফলে ঘড়ির কাটায় যখনই সংখ্যা বাড়ে, তার মানে এই নয় যে ঠিক সেই মুহূর্তেই দেশে কোনো নতুন প্রাণের জন্ম হয়েছে। এটি মূলত একটি বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক মডেল (Statistical Model), যা গাণিতিক সূত্রের সাহায্যে জনসংখ্যার সম্ভাব্য পরিবর্তনকে চোখের সামনে ফুটিয়ে তোলে।

এইমসের সঙ্গে কি এর কোনো সরাসরি যোগ আছে?

এই ঘড়িটি এইমস চত্বরে বসানো থাকায় অনেকের মনেই এই ভ্রান্ত ধারণা হতে পারে যে, বোধহয় ওই হাসপাতালের জন্মরেকর্ড থেকেই দেশের জনসংখ্যার এই লাইভ ডেটা তৈরি হচ্ছে। তবে এর সঙ্গে হাসপাতালের দৈনিক ডেলিভারি রেকর্ডের দূরদূরান্তের কোনো সম্পর্ক নেই। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের শেষ পূর্ণাঙ্গ জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে, যেখানে দেশের লোকসংখ্যা ছিল প্রায় ১২১.১ কোটি। পাশাপাশি, জাতীয় স্বাস্থ্য প্রোফাইল অনুযায়ী ২০৩৬ সালের মধ্যে দেশের জনসংখ্যা ১৫২.২ কোটিতে পৌঁছানোর অনুমান করা হয়েছিল। এই সমস্ত ডেটা এবং বৈজ্ঞানিক প্রজেকশনের ওপর ভিত্তি করেই এই ঘড়িটি কাজ করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *