‘নবরাত্রিতে মাছ-মাংস খাই..!’ বাগেশ্বর বাবার ‘পাষণ্ড’ মন্তব্যে তথাগত রায়ের বিস্ফোরক জবাব

লিলুয়ার ‘হনুমান কথা’ পাঠ করতে এসে দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার বর্জন এবং নবরাত্রি পালনের আহ্বান জানিয়ে তীব্র বিতর্কে জড়িয়েছেন বাগেশ্বরধামের প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। পুজোয় যাঁরা আমিষ খান, তাঁদের ‘পাষণ্ড’ বলে মন্তব্য করার পাশাপাশি প্যান্ডেলের আশেপাশে আমিষ খাবার বিক্রির তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে বঙ্গ রাজনীতিতে যখন তরজা তুঙ্গে, তখন খোলামেলা বিরোধিতায় নেমে এক হাত নিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ বার্তায় তথাগত রায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে তিনি ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকে শ্রদ্ধা করলেও, তাঁর কোনো নির্দেশ বা ‘ফরমান’ মেনে চলা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তথাগত লিখেছেন, ‘যাদের বদ্ধমূল ধারণা যে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ কোনো ধর্মগ্রন্থ বা গুরুর নির্দেশেই পরিচালিত হতে হবে, তাদের বিনীতভাবে জানাচ্ছি যে—নবরাত্রির সময়ও আমি মাছ-মাংস আহার করি। কেন আমি তা খাই, সে বিষয়ে আমি কাউকে কৈফিয়ত দেব না। আমি শতভাগ হিন্দু এবং ভবিষ্যতেও তাই থাকব।’

হিন্দু ধর্মের মূল নির্যাস যে বৈচিত্র্য এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, তা মনে করিয়ে দিয়ে তথাগত রায় আরও জানান, ইসলামি চিন্তাধারার মতো হিন্দু ধর্মে কোনো মোবাইল বা অনুশাসনের ‘ফরমান’ জারি করার নিয়ম নেই। মনুসংহিতা বা অন্য কোনো শাস্ত্রকে নিজের জীবন নিয়ন্ত্রণ করার লাইসেন্স তিনি কাউকে দেবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। বাংলার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও খাদ্যাভ্যাসের ওপর ভিন রাজ্যের সাধু-সন্তদের এই ধরনের নৈতিক নিদান চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাকে ঘিরেই এখন রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *