১০ হাতের জায়গায় মা দুর্গার ১১টি হাত! রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপনে এ কী ভুল, মুহূর্তেই শুরু শোরগোল!

সনাতন পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী দেবী দুর্গা সর্বদা দশভূজা রূপেই পূজিতা হয়ে আসছেন। কিন্তু দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি বিজ্ঞাপনে দেবী দুর্গার ১০টির পরিবর্তে ১১টি হাত থাকার দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্কের ঝড় উঠেছে। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের এই প্রকাশনা ঘিরে একদিকে যেমন বিরোধী শিবির সোচ্চার হয়েছে, তেমনই শাসকদল ও সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলির ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপনের ছবি ঘিরে রাজনৈতিক তরজা

২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি ও রূপরেখা নিয়ে সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠকের প্রচারেই তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তরফে সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। আর সেই বিজ্ঞাপনের সঙ্গেই জুড়ে দেওয়া দেবী দুর্গার ছবিতে দেখা যায় যে, দেবীর মোট ১১টি হাত রয়েছে এবং তাঁর হাতে অতিরিক্ত অস্ত্রও তুলে দেওয়া হয়েছে। পৌরাণিক শাস্ত্রের বর্ণনার সঙ্গে এই ছবির কোনো মিল না থাকায় মুহূর্তের মধ্যে তা সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলের নজরে আসে।

এই ভুলত্রুটি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, “একটা চমৎকার সরকারি বিজ্ঞাপন! এখানে মা দুর্গার এগারোটা হাত। দেবতাদের পক্ষ থেকে দুর্গাকে দশ হাতে অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল অসুর বধের জন্য। আর বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে ঠাকুরকে একটা এক্সট্রা হাত দেওয়া হয়েছে।” (উল্লেখ্য, এদিনের প্রাপ্ত তথ্যে রাজ্যের বর্তমান শাসকদলকে নিয়ে এই মন্তব্য করা হয়েছে)। শুধু বাম শিবিরই নয়, এই ত্রুটিপূর্ণ ছবি সামনে আসতেই শোরগোল শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফেও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, “মা দুর্গার হাত কবে থেকে ১১টি হলো? কার মাথায় এল যে তাঁকে এইভাবে উপস্থাপন করা গ্রহণযোগ্য?”

কী সাফাই দিল বিজেপি নেতৃত্ব?

এই গোটা বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রথমে রসিকতার সুরে মন্তব্য করেন যে, “মা দুর্গা আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে গিয়েছেন।” এরপর কিছুটা সংযত হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান যে, তিনি নিজে এখনও ওই বিজ্ঞাপনটি দেখেননি। তবে যে বিজ্ঞাপন তৈরির দায়িত্বে থাকা কোনো নির্দিষ্ট এজেন্সি বা সংস্থা এই টেকনিক্যাল ভুল করেছে, তা কোনোভাবেই রাজনীতির বিষয় হতে পারে না। এই ধরনের অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি দ্রুত সংশোধন করে নেওয়া হবে বলেই জানিয়েছেন তিনি। তবে পুজো শুরুর ঠিক প্রাক্কালে সরকারি বিজ্ঞাপনে এই ধরণের অসঙ্গতি নিয়ে সমালোচনার ঝড় থামছে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *