ফোনের স্ক্রিন হঠাৎ ফ্রিজ হয়ে গেলেই বড় বিপদ! ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিমেষে খালি করছে কোন নতুন স্ক্যাম?

সোশ্যাল মিডিয়া ঘাঁটতে ঘাঁটতে হঠাৎ দেখলেন আপনার ফোনের স্ক্রিনটি পুরোপুরি ফ্রিজ বা আটকে গিয়েছে। কিংবা কোনো জরুরি ইউপিআই পেমেন্ট করতে গিয়ে দেখলেন ফোনটি আর একদমই কাজ করছে না। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আকছারই আমরা ভেবে বসি যে ফোনটি বুঝি হ্যাং হয়ে গিয়েছে বা কোনো কারণে খারাপ হয়ে পড়েছে। কিন্তু সাবধান! হঠাৎ ফোনের স্ক্রিন এইরকম অবশ হয়ে যাওয়া কোনো সাধারণ যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক সাইবার প্রতারণার নতুন ফন্দি। ফোন খারাপ হচ্ছে না, বরং এই সুযোগেই আপনার সমস্ত গোপনীয় তথ্য হাতিয়ে অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দিচ্ছে অপরাধীরা।
কীভাবে পাতা হচ্ছে এই প্রতারণার ফাঁদ?
বর্তমানে ডিজিটাল দুনিয়ায় এই নতুন ধরনের জালিয়াতি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন বা অচেনা কোনো ক্ষতিকারক লিঙ্কে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গেই ফোনের স্ক্রিন আচমকা ফ্রিজ হয়ে যায়। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আর এই ভয়ের পরিবেশটাকেই নিজেদের অস্ত্র বানায় প্রতারকরা। সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, রিমোট অ্যাক্সেস টুল এবং অ্যান্ড্রয়েড পারমিশনের অপব্যবহার করে হ্যাকাররা নিমিষেই আপনার মোবাইল ফোনটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কব্জায় নিয়ে নেয়। এরপর সুযোগ বুঝে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত টাকা অনায়াসে গায়েব করে দেওয়া হয়।
বিখ্যাত সাইবার সিকিউরিটি সংস্থা কুইক হিল টেকনোলজির সিইও হরিশ কুমার এই বিষয়ে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, ফোনের স্ক্রিন ফ্রোজেন হয়ে যাওয়াটা আসল সমস্যা নয়, বরং ব্যবহারকারীকে মানসিকভাবে বিভ্রান্ত এবং আতঙ্কিত করার জন্যই এই কৌশল ব্যবহার করা হয়। স্ক্রিন আটকে যাওয়ার পর যখন ব্যবহারকারী ফোনটি ঠিক করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন, ঠিক তখনই প্রতারকরা আসরে নামে। তারা ভুয়ো এরর মেসেজ, পপ-আপ বিজ্ঞাপন বা নিজেদের কাস্টমার সাপোর্ট এক্সিকিউটিভ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফোন করে। এরপর সাহায্যের নামে টার্গেট করা ব্যক্তিকে একটি ক্ষতিকারক এপিকে (APK) ফাইল ডাউনলোড করতে বাধ্য করা হয়। একবার এই ফাইল ফোনে ইনস্টল হলেই মোবাইলের অ্যাক্সেসিবিলিটি, নোটিফিকেশন এবং সংবেদনশীল পারমিশনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে যায় হ্যাকারদের হাতে।
কীভাবে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ?
প্রতারকরা প্রধানত ভুয়ো অ্যাপ্লিকেশন বা ফিশিং পেজের মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাক্সেসেবিলিটি এবং স্ক্রিন শেয়ারিং অ্যাপ্লিকেশনের সাহায্য নিয়ে শিকারের প্রতিটি গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখে। যার ফোনে এই ঘটনা ঘটে, তিনি ঘোরের মধ্যে বুঝতেও পারেন না যে অজান্তেই তিনি কোনো ইউপিআই পিন টাইপ করছেন বা কোনো ট্রানজাকশন করে ফেলছেন। প্রতারকরা দূর থেকেই স্ক্রিন শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে সেই পাসওয়ার্ড বা পিন দেখে নেয় এবং সুযোগ বুঝে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সাফ করে দেয়। এর ফলে কোনটা আসল পেমেন্ট আর কোনটা জালিয়াতি, তা সাধারণ মানুষের পক্ষে আলাদা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
সুরক্ষিত থাকার কার্যকরী উপায়:
যদি হঠাৎ কখনো আপনার ফোনের স্ক্রিন এভাবে ফ্রিজ হয়ে যায়, তবে অবিলম্বে মোবাইল ডেটা কিংবা ওয়াইফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিন।
স্ক্রিন আটকে গেলে আতঙ্কিত হয়ে কোনো অবস্থাতেই কোনো ব্যাংকিং ক্রেডেন্সিয়াল বা ইউপিআই পিন ইনপুট করবেন না।
কোনো অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে কাস্টমার কেয়ারের নামে কিছু ডাউনলোড করতে বললে ভুলেও তা করবেন না।
ফোনে কোনো সন্দেহজনক বা থার্ড-পার্টি অ্যাপ্লিকেশন রাখবেন না এবং অপ্রয়োজনীয় কোনো অ্যাপকে ‘অ্যাক্সেসিবিলিটি’ পারমিশন দেবেন না।
যদি আপনার সামান্যও সন্দেহ হয় যে ব্যাংকিং তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে গিয়েছে, তবে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকে যোগাযোগ করুন। বিকল্প কোনো ডিভাইস থেকে দ্রুত আপনার ব্যাংকের পাসওয়ার্ড বা ইউপিআই পিন বদলে ফেলুন।